নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: ১৯৪৩ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় দুর্ভিক্ষ তৈরি করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল। লন্ডনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারির এক ভিডিয়ো প্রদর্শনীতে এমনটাই দাবি করেছিলেন শিল্পী হেলেন ক্যামক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, ইতিহাস বিকৃত করেছেন শিল্পী। অবশেষে ৪০ মিনিটের সেই ভিডিয়ো সরিয়ে ফেলা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে পোর্ট্রেট গ্যালারিতে ‘পার্সিসট্যান্স’ নামক ওই প্রদর্শনী চলছিল। তারই অংশ হিসাবে এই ভিডিয়ো তৈরি করেছিলেন ক্যামক। সম্প্রতি দুর্ভিক্ষের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান চার্চিলের জীবনীকার লর্ড অ্যান্ড্রু রবার্টস। শিল্পীকে চ্যালেঞ্জ করে একটি খোলা চিঠি লেখেন তিনি। চিঠিতে চার্চিলের নাতি স্যর নিকোলাস সোমস সহ ৫০ জনের স্বাক্ষর রয়েছে। প্রদর্শনী নিয়ে রবার্টসের বক্তব্য, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এই ভিডিয়ো প্রদর্শনী নির্মাণ করেছেন শিল্পী। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ক্ষয়ক্ষতি সত্যিই কল্পনাতীত। তবে চার্চিল তা ইচ্ছাকৃতভাবে করেননি। এটা অত্যন্ত ঘৃণ্য অভিযোগ। বহু মানুষ চার্চিলের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে তথ্য জানাচ্ছে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে সবরকম সাহায্য করতে চেয়েছিলেন তিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বাংলার দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। মন্ত্রিসভাকে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চার্চিল। রাষ্ট্রনেতাদের চাল পাঠানোর আরজি পর্যন্ত জানিয়েছিলেন তিনি। বাংলায় তখন ব্রিটিশ শাসন। তাই দুর্ভিক্ষে তাদের গাফিলতির বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তবে চার্চিলের ইচ্ছায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যে।’
চাপের মুখে পড়ে ভিডিয়োটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় গ্যালারি কর্তৃপক্ষ। পরে সেটি প্রদর্শনী থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন ক্যামক। তাঁর কথায়, ‘শিল্পী ও শিল্প সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের উপর বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। আমি সেটা মানি না।’