


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: শনিবারও কাকলিদেবীর মৃতদেহ হাতে পেল না সরকার পরিবার। বৃহস্পতিবার বারাকপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়ায় নিজের বাড়িতেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন এই গৃহবধূ। শুক্রবার ময়নাতদন্ত করা হলেও সেদিন মরদেহ পরিবারের হাতে দেয়নি প্রশাসন। কারণ কাকলিদেবীর মা ও বাবা বাংলাদেশে থাকেন। তাঁরা অসুস্থ। তাঁদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা প্রথমে এদেশে আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেও শেষ অবধি আসতে পারছেন না। স্বভাবতই কাগজপত্র সংক্রান্ত কিছু খুঁটিনাটি সমস্যা থাকায় পরিবারের হাতে দেহ দেওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে, এদিনই মৃতার বাড়িতে যান তৃণমূল নেতৃত্ব। বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস, স্থানীয় কাউন্সিলার শুভ্রকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে তাঁর স্বামী সবুজ সরকারের সঙ্গে দেখা করেন। সবুজবাবু তাঁদের বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি রয়েছেন, তাঁদের আসার জন্য আমরা আরও একদিন অপেক্ষা করলাম।
সবুজবাবুর কথায়, এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্ত্রী টেনশনে ছিলেন। একবার বাংলাদেশে যেতেও চেয়েছিলেন। ওখানে অশান্তি চলায় বলেছিলাম, ক’দিন পরে যেতে। ও খালি বলত, আমি তো ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তাহলে কি আমাকে এনআরসি ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে? এনআরসির জন্য কোথায় আত্মহত্যা হয়েছে, সেই খবর দেখে আমাকে বলত। আমি বোঝানোর চেষ্টা করতাম। এরমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল।
স্থানীয় কাউন্সিলার শুভ্রকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা এই পরিবারের পাশে আছি। এসআইআর ঘোষণার কথা জানতে পেরেই আতংকে কাকলিদেবী আত্মহত্যা করেছেন। বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস বলেন, এসআইআর নিয়ে মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাঁরাই আতংকিত। সেই আতংক থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। ২০১১ সালে সবুজ ও কাকলি বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের দু’টি সন্তান রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কাকলিদেবীর নাম নেই। তাঁর বাবা-মা বাংলাদেশে থাকেন। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন বহু মানুষকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গৃহবধূর মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। পুলিস এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করলেও এসআইআরের দিকটিও খতিয়ে দেখছে।