Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পুরীতে উধাও চেনা ভিড়, সংখ্যা কম ‘বঙ্গালিবাবু’দের

মাসির বাড়ি থেকে শ্রীমন্দিরে ফিরলেন জগন্নাথদেব। শনিবার রীতি মেনে রথের উপরেই চারদিকে সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দেন পুরীর রাজা গজপতি মহারাজ। সেই পথেই মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার রথ।

পুরীতে উধাও চেনা ভিড়, সংখ্যা কম ‘বঙ্গালিবাবু’দের
  • ৬ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরী: মাসির বাড়ি থেকে শ্রীমন্দিরে ফিরলেন জগন্নাথদেব। শনিবার রীতি মেনে রথের উপরেই চারদিকে সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দেন পুরীর রাজা গজপতি মহারাজ। সেই পথেই মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার রথ। এদিন নির্বিঘ্নে মন্দিরে পৌঁছেছে তিনটি রথই। যদিও এই বছর উল্টোরথে পুরীর তেমন উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েনি। একই অভিজ্ঞতা স্থানীয়দের। পুরীর রাস্তায় কান পাতলে একটাই কথা শোনা যাচ্ছে, ‘বঙ্গালিবাবুদের’ সংখ্যা কম। এমনকী পুলিসকর্মী থেকে হোটেল ব্যবসায়ী— সবার গলাতেই একই সুর।

Advertisement

স্থানীয়রা অনেকেই মনে করছেন, এই বছর দীঘায় জগন্নাথ মন্দির হওয়ায় বাংলার অনেকেই সেখানে গিয়েছেন। শনিবার উল্টোরথের দিন গুন্ডিচা মন্দির থেকে রথ বেরনোর সময় দেখা যাচ্ছিল, বলরাম ও সুভদ্রার রথের চারপাশে লোকজনের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ কম। তবে জগন্নাথের রথের চারপাশে ভিড় ছিল। স্থানীয় দোকানি রবিকান্ত মহান্তি বলেন, অন্যান্য বছর যেমন ভিড় হয়, এবার তার তুলনায় অনেকটাই কম। ‘বঙ্গালিবাবু’রা হয়তো দীঘাতেই ভিড় জমিয়েছেন। একই কথা জানিয়েছেন পুরীর অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও। তাঁরাও উল্টোরথে কম ভক্ত সমাগম হয়েছে বলে দাবি করেছেন। কারণ হিসেবে তাঁরাও চিহ্নিত করেছেন দীঘাকে। 
এই বছর ইসকনের বিদেশি ভক্তদের সংখ্যাও বেশ কম ছিল বলে জানা গিয়েছে। কারণ, পুরীর মন্দিরে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে সেরকম কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে ইসকনের বেশিরভাগ ভক্তই এবার দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভিড় জমিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। 
জানা গিয়েছে, শনিবার গুন্ডিচা মন্দির থেকে দুপুর ২টো ৪৫ মিনিট নাগাদ যাত্রা শুরু করে জগন্নাথের রথ নন্দীঘোষ। একইসঙ্গে বলরামের তালধ্বজ ও সুভদ্রার দর্পদলনের রশিতে টান দেন ভক্তরা। হরিধ্বনিতে মুখরিত হয় চারদিক। পুরীর স্থানীয় ভাষায় উল্টো রথকে ‘বহুদাযাত্রা’ বলা হয়। ভক্তদের কাছে এই যাত্রাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মজুত ছিল বিশাল পুলিস বাহিনী। এছাড়াও ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয় সর্বত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ