


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আর পাঁচটা মুরগির থেকে একেবারেই আলাদা দেখতে। কোনওটার চোখ-মুখ ঢেকেছে পালকে। কারও আবার বিরাট লেজ। রঙেও রয়েছে চমক। কোনওটি ধূসর, কারও আবার সোনালি ও সাদা পালকে ঢাকা গোটা শরীর। প্রত্যেকেই ভিনদেশি। পোল্ট্রি খামারে বিশ্বের নানা দেশের, নানা প্রজাতির মুরগির এমনই বিচিত্র সমাহার ঘটিয়েছেন ফলতার নপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম মোল্লা। আমেরিকা, চীন, নেদারল্যান্ডস, কলম্বিয়া, জাপান—বিভিন্ন দেশের হরেক মুরগির ঠাঁই হয়েছে পোল্ট্রি ফার্মে। বিদেশের চাকরি ছেড়ে এই ‘ফ্যান্সি মুরগি’ প্রতিপালনের ব্যবসায় বুঁদ হয়েছেন শামীম। বিদেশি এই মুরগিগুলি প্রতিপালনের পাশাপাশি তা বিক্রিও করেন তিনি। শুধু এ রাজ্য নয়, অসম, বিহার, ওড়িশার মতো প্রতিবেশী রাজ্যের লোকজনও শামীমের কাছ থেকে এই মুরগি কিনে নিয়ে যান। ক্রেতাদের সিংহভাগই এগুলি বাড়িতে পোষার জন্য নিয়ে যান বলেই জানা গিয়েছে।
আপাতত ১৩- ১৪ ধরনের বিদেশি মুরগি প্রতিপালন করেন শামীম। মূলত দক্ষিণ বা পশ্চিম ভারতের বড় বড় কারবারির কাছ থেকে মুরগির বাচ্চা এনে যত্ন করে বড় করেন তিনি। তারপর চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করা হয়। যুবক বলেন, ‘এসব মুরগি বিদেশ থেকে বড় বড় প্রতিপালকরা নিয়ে আসেন। তাঁদের কাছ থেকেই আমাদের কিনতে হয়। এক-একটা মুরগির বাচ্চা ৪০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়।’ কথায় কথায় তিনি জানালেন, হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করে দুবাই এবং সৌদি আরবে হোটেলে কাজ করছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘ফ্যান্সি মুরগি’র ভিডিও দেখে নিজেই এগুলি প্রতিপালনের কাজ শুরু করেন। বছর দেড়েক আগে বিদেশের চাকরি ছেড়ে পুরোদমে নেমে পড়েন এই কাজে। বর্তমানে শামীমের খামারে বড় হচ্ছে হোয়াইট আমেরিকান সিল্কি, গোল্ডেন আমেরিকান সিল্কি, ফ্রিজিল, পলিশ ক্যাপ, গোল্ডেন ওয়ায়েনডট, জাপানের ওনাগাদরি, সেব্রাইট, কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহামা সহ বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি। এদের দেখভালে খুব বেশি ব্যস্ত হতে হয় না বলেই জানালেন শামীম। তিনি বলেন, ‘শীতকালে মুরগির খাঁচাগুলি একটু ঢেকে রাখতে হয়। ভিতরে তাদের গরম রাখার জন্য ১০০ ওয়াটের বাল্ব জ্বালিয়ে দিই। গরমকালের ওদের ওআরএস যুক্ত জল খাওয়াতে হয়।’ তাঁর এই অভিনব পেশার খবর কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল? শামীম বলছিলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করার পর অনেকে মুরগি কেনার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। তারপরই অনেকে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন।’ নিজস্ব চিত্র