


সংবাদদাতা, বজবজ: বিরাট জনাদেশ নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ফলতার মতো একটি বিধানসভা আসনে হার বা জয় নিয়ে পদ্ম শিবিরের কিছু যায় আসে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও দলের রাজ্য ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব ফলতাকে এখন পাখির চোখ করে দিনরাত পরিশ্রম করছে। এবার ফলতার ভোটে মাতৃশক্তিকে উজ্জীবিত করে মহিলা ভোটকে নিজেদের দিকে টানার উপর জোর দিয়েছে বিজেপি। এজন্য হাওড়া, মালদহ, আসানসোল এবং পুরুলিয়া থেকে সাংসদ ও নির্বাচিত বিধায়কদের আনা হয়েছে ফলতায়। এর সঙ্গে সাগর, কাকদ্বীপ, সাতগাছিয়ার জয়ী বিজেপি বিধায়করাও রয়েছেন। পাড়ায় পাড়ায় ঢুকে মহিলাদের সঙ্গে চাটাই বৈঠক চলছে। তাতে সাড়া পড়েছে। এই বৈঠক করার জন্য ফলতার পাঁচটি মণ্ডলের মাথায় রাখা হয়েছে বিভিন্ন বিধায়ককে। বুথ ধরে ধরে চাটাই বৈঠক চলছে। প্রতিটি চাটাই বৈঠকে অন্তত দেড়শো মহিলা থাকছেন। তাঁরা তাঁদের সমস্যার কথা বলছেন। তা শোনার পর বিজেপির টিম সমাধানের রাস্তা বাতলে দিচ্ছে। পাশাপাশি বিজেপি সরকারে আসার পর কী কী সুবিধা মহিলাদের দেওয়া হবে, সেই তালিকা তাঁদের সামনে রাখা হচ্ছে।
বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিধায়করা তাঁদের কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের কীভাবে বুঝিয়ে নিজেদের দিকে এনেছেন, সেই পরামর্শকে কাজে লাগানো হচ্ছে চাটাই বৈঠকে। তাতে আগের থেকে মহিলাদের ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি এখন ফলতায় সংখ্যালঘু মহিলা ভোটাররাও এগিয়ে এসেছেন। ফলে আশা করা যায়, এবার সংখ্যালঘু মহিলাদের ভোট বিজেপিতে আসতে পারে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ফলতায় কর্মিসভা করে গিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ফের ফলতায় আসছেন তিনি। ফতেপুরে পদযাত্রা করবেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রবিবার জনসভা করে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে কোথাও ফাঁক রাখতে চাইছে না বিজেপি। এদিকে, রবিবার রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল সহ সব দলকেই প্রচারে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থী দাপিয়ে প্রচার করেছেন। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা বলেন, সিপিএমের বড়ো বড়ো নেতা-নেত্রী এসেছেন শুনলাম। ভালো লাগছে। তৃণমূল বেরলে প্রচার আরও জমে যাবে। আমাদের দল সেটাই চায়। ভয়হীন প্রচার ও ভোট হোক।