বিদ্যুৎকান্তি বর্মন, ফালাকাটা: গ্রামের পড়ুয়াদের দ্রুত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে স্বাবলম্বী করতে অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলায় আরও একটি নতুন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০১ সালে মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একটি একক ডিপ্লোমা কোর্স দিয়ে ফালাকাটা পলিটেকনিকের পথচলা শুরু। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের তৃষ্ণা, শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং স্থানীয় মানুষের সমর্থনে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলে। দীর্ঘ ২৫ বছরের সেই পথচলা আজ ৩০ জন পড়ুয়া থেকে ১০০০ গন্ডি পেরিয়েছে। শহরের বাগানবাড়িতে হয়েছে নিজস্ব ভবন। গুটিগুটি পায়ে হেঁটে আজ ফালাকাটা পলিটেকনিকের রজতজয়ন্তী বর্ষ।
বর্তমানে ফালাকাটা পলিটেকনিক শুধু একটি কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়, ৫টি বিভাগে প্রায় ১০০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কলেজের পরিকাঠামো, ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার ও প্রযুক্তিগত সুযোগসুবিধা দিন দিন আধুনিকায়নের পথে এগিয়েছে। একসময়ের ছোট্ট প্রতিষ্ঠান আজ উত্তরবঙ্গের অন্যতম একটি উল্লেখযোগ্য কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যেখানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার তো বটেই, এই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে প্রতিবেশী রাজ্য অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে পড়ুয়ারা আসছেন।
শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কলেজের অবদান প্রশংসনীয়। প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী বিভিন্ন খ্যাতনামা সংস্থায় প্লেসমেন্ট পাচ্ছে। ক্যাম্পাসে প্রতিবছর বিভিন্ন সংস্থা এসে সরাসরি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আবার অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য নামী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন। স্থানীয় যুবসমাজের কাছে ফালাকাটা পলিটেকনিক আজ একটি আশার আলো। রজতজয়ন্তী বর্ষে এই বিশেষ মুহূর্তে কলেজ প্রাঙ্গণে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার ও প্রাক্তনীদের নিয়ে মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে পুরনো ছাত্রছাত্রীদের আবেগঘন পুনর্মিলন কলেজকে এক নতুন মাত্রা দিতে চলেছে। আগামী দিনে নতুন নতুন প্রযুক্তি নির্ভর কোর্স চালু করা, গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত করা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে তোলাই এখন কলেজের লক্ষ্য।
কাল, বুধবার কলেজ প্রাঙ্গণে সিলভার জুবিলির অনুষ্ঠন রয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে। এই প্রতিষ্ঠার তৈরির পিছনে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বর্তমান অধ্যক্ষ মৃণালকান্তি ব্যাধ বলেন, ফালাকাটা পলিটেকনিক শুধু একটি কলেজ নয়, এটি আমাদের এলাকার শিক্ষার উন্নতির প্রতীক। গত ২৫ বছরে আমরা যেমন এগিয়েছি, আগামী দিনে আরও অনেক দূর এগনোর স্বপ্ন দেখি। ২৫ বছরের এই পথচলায় ফালাকাটা পলিটেকনিক প্রমাণ করেছে, সীমিত সুযোগসুবিধা নিয়েও দৃঢ় মনোবল ও সঠিক দিকনির্দেশনায় একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছতে পারে। নিজস্ব চিত্র।