নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে রাজ্যজুড়ে লাগাতার কর্মসূচি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে একটি বৈঠক হয়। সেখানে দলের কোর কমিটির সদস্য, জেলা সভাপতি ও জেলা চেয়ারম্যানরা ছিলেন। উল্লেখ্য, এই কোর কমিটি গড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। বৈঠকে ভোটার তালিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। দলীয় সূত্রে খবর, সমস্ত কর্মীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি বিষয়: (এক) বিধানসভা ভিত্তিক প্রত্যেক বুথের ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করতে হবে। (দুই) অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে যেসব ভোটারের নাম অর্ন্তভুক্ত হয়েছে, তাদের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। (তিন) একই এপিক নম্বরে একাধিক নাম থাকলে সেগুলি নথিভুক্ত করতে হবে আলাদাভাবে। (চার) বাংলায় ভোট দেওয়ার অধিকারী যাঁরা নন, তাঁদের নামগুলিও আলাদাভাবে নথিভুক্ত করা চাই। (পাঁচ) যেসব নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে জোর দিতে হবে সেগুলি ফের নথিভুক্ত করার উপর।
ভুয়ো ভোটার নিয়ে শোরগোল পড়তেই নির্বাচন কমিশনের তরফেও নজরদারি শুরু হয়েছে। যদিও তাতে আহ্লাদিত নয় তৃণমূল। বরং এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের ৮১ হাজারের বেশি বুথে প্রত্যেকটি ভোটার লিস্টে বিশেষ স্ক্রুটিনি অভিযান চলবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায়।
জেলায় একটি করে কমিটি গড়ার নির্দেশ গিয়েছে। তৃণমূলের জেলা কমিটিতে থাকবেন জেলা সভাপতি, চেয়ারম্যান, সাংসদ, বিধায়ক, শাখা সংগঠনের সভাপতি, ব্লক ও টাউনের সভাপতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান প্রমুখ। এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি ব্যস্ত ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি নিয়ে। বৈঠকে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ বিকেল ৪টায় অভিষেক ভোটার লিস্ট নিয়ে একটি ভার্চুয়াল মিটিং করবেন। ওই বৈঠকে থাকবেন রাজ্য এবং জেলা কমিটির সদস্যরা।
এদিন দলের বৈঠক শেষ করে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যায় তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। তাতে ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয় কমিশনে। এছাড়া এপিক নম্বর সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরে দাবি করা হয়, নির্ভুল
ভোটার তালিকার দিকে নজর দিক কমিশন। ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে বিজেপির ষড়যন্ত্র ও কারচুপি দেখছে রাজ্যের শাসক দল।