


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ যে মিথ্যা ছিল না, তা মেনে নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ‘ডুপ্লিকেট’ ভোটার কার্ড (এপিক) ইস্যুতে শুক্রবার কমিশন জানিয়ে দিল, এ ধরনের কার্ড রয়েছে। তবে আজ নয়। বহুদিন ধরে চলছে এই সমস্যা। আর তাই কমিশনের মরিয়া ড্যামেজ কন্ট্রোল—যাদের ডুপ্লিকেট নম্বরের ভোটার কার্ড রয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের ‘ইউনিক ন্যাশনাল এপিক নাম্বার’ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাঁরা ভোটার হবে, তাদেরও এ ধরনের বিশেষ নম্বর মিলবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক্ষেত্রেও তৃণমূলের বেঁধে দেওয়া সময়সীমাই মেনে নিল নির্বাচন কমিশন। যদিও তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, গোটা দেশে কত ডুপ্লিকেট এপিক নম্বর আছে, তা কেন স্পষ্ট করেনি কমিশন? কাকে বাঁচাতে চাইছে কমিশন? তৃণমূলের দাবি, দুর্বল ব্যাখ্যা দিয়ে শেষমেশ নির্বাচন কমিশন কারচুপি স্বীকার করেছে। হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন মাসের মধ্যে ভুল শুধরোবে বলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারচুপির পর্দা ফাঁস করেছেন বলেই কমিশন নড়েচড়ে বসেছে। কিন্তু কমিশনের গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এপিক নম্বরের ভুল সিরিজ বেরিয়ে এল? নকল এপিক শনাক্ত করার সফ্টওয়্যারের কী হল? ২০০০ সাল থেকে যদি এই সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে গত ২৫ বছরে কেন কমিশন কিছুই করেনি? তৃণমূলের দাবি, কমিশন তার দায়িত্ব পালনে স্রেফ ব্যর্থই নয়, বরং বিজেপির নির্বাচনী কারচুপির একান্ত সহায়ক হয়ে উঠেছে।
কমিশন এদিন ডুপ্লিকেট এপিক নম্বরের দায় চাপিয়েছে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) ঘাড়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর অনুজ চাণ্ডক এদিন বিবৃতিতে বলেছেন, ‘২০০০ সাল থেকে রাজ্যকে এপিক সিরিজ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছু ইআরও ঠিক মতো সেই সিরিজ অনুসরণ করেননি। রাজ্যগুলি যেহেতু নিজেদের মতো ভোটার তালিকা তৈরি করে, তাই ভুল ধরা পড়েনি।’ তৃণমূল কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে, এর শেষ দেখে ছাড়ব। সোমবার শুরু হতে চলা সংসদ অধিবেশনে ডুপ্লিকেট ভোটার ইস্যুতে ‘ইন্ডিয়া’ও এককাট্টা। উভয় কক্ষেই বিরোধী এমপিরা কেন্দ্রকে জবাব দিতে বাধ্য করার জন্য নোটিস জমা করেছে।