সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভোটার তালিকায় একই ব্যক্তির দু’জায়গায় নাম। তবে নাম ও বাবার নাম আলাদা হলেও ছবি এক। এপিক নম্বরও আলাদা। ওই ব্যক্তির আবার বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে। সম্প্রতি ভুয়ো ভোটারের খোঁজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে এই হাতেগরম তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ ব্লকের ধর্মপুকুরিয়া পঞ্চায়েতে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস মণ্ডলের দাবি, ওই ব্যক্তি আসলে বাংলাদেশের বাসিন্দা। কারও মাধ্যমে তিনি এদেশের ভোটার তালিকার ৭৮ নম্বর পার্টে দু’বার নাম তুলেছেন।
ওই ব্যক্তির নাম সঞ্জয়কুমার বিশ্বাস। থাকেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহে। বাবার নাম সঞ্জিতকুমার বিশ্বাস। তিনি বনগাঁ ব্লকের ধর্মপুকুরিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় স্থায়ীভাবে বাস করেন, এমন দাবি করে নাম তুলেছেন ভোটার তালিকায়। একটি এপিক নম্বরে তাঁর নাম সুজয় বিশ্বাস, বাবা সঞ্জিত বিশ্বাস। আবার ওই একই পার্টে অন্য একটি এপিক নম্বরে তাঁর নাম সুজন দাস, বাবা সঞ্জিত দাস। ছবিতে অবশ্য একই ব্যক্তির মুখ রয়েছে।
ধর্মপুকুরিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস মণ্ডল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে এই ভুয়ো ভোটারের খোঁজ মিলেছে। যে ব্যক্তিকে নিয়ে এত আলোচনা, তাঁর বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব।’ স্থানীয় বাসিন্দা পরিতোষ মণ্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বাস করছি। ভোটার তালিকায় যে ব্যক্তির ছবি দেখা যাচ্ছে, তাঁকে কখনও দেখিনি।’
ভুয়ো ভোটার নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবদাস মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘বেছে বেছে মতুয়াদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বাগদার মেহেরানির বাসিন্দা নিখিল কীর্তনিয়ার স্ত্রী ও ছেলেকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল।’ এবিষয়ে নিখিল কীর্তনিয়া বলেন, ‘স্ত্রী ও ছেলেকে কাগজপত্র নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। আমরা এই ঘটনায় আতঙ্কিত। তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে কমিশন নোটিস দিতেই পারে। বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ আনছে। নিজস্ব চিত্র