Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় ধৃত জাল টিকিট পরীক্ষক

বিনা টিকিটের যাত্রীদের ধরার জন্য হাতে টিটিদের বই। পরনে সাদা জামা-প্যান্ট। বুকে ইন্ডিয়ান রেলওয়ের লোগো লাগানো ব্যাজ। টিকিটহীন যাত্রীদের ধরে চলছিল জরিমানা আদায়।

হাওড়ায় ধৃত জাল টিকিট পরীক্ষক
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিনা টিকিটের যাত্রীদের ধরার জন্য হাতে টিটিদের বই। পরনে সাদা জামা-প্যান্ট। বুকে ইন্ডিয়ান রেলওয়ের লোগো লাগানো ব্যাজ। টিকিটহীন যাত্রীদের ধরে চলছিল জরিমানা আদায়। ডিউটিরত আরপিএফকে দেখে বারবার জায়গা বদল করছিলেন অভিযুক্ত। তা দেখেই সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করতেই ঝোলা থেকে বেরিয়ে এল বিড়াল। জানা গেল, তিনি ভুয়ো টিকিট পরীক্ষক। অভিযুক্ত অরিত দাসকে তুলে দেওয়া হয় রেল পুলিসের হাতে। তার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে জরিমানার জাল বই, মোবাইল, ইন্ডিয়ান রেলের লোগো লাগানো ব্যাজ, জাল আইডি কার্ড সহ বিভিন্ন সামগ্রী।

Advertisement

রেল পুলিস সূত্রে খবর, ওই ভুয়ো টিটি হাওড়া স্টেশনে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ডিউটি করার ভান করছিলেন। ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কোনও ট্রেন ঢুকলেই বেছে বেছে যাত্রীদের ধরে টিকিট পরীক্ষা করছিলেন। তাতে কয়েকজন বিনা টিকিটের যাত্রী ধরাও পড়েন। তাঁদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ টাকাও নেন। টিকিটহীন যাত্রীরা পরিচয়পত্র যাচাই না করে টাকা দিয়ে চলে যান। কিন্তু সিসি ক্যামেরায় ওই ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ হয় আরপিএফের। রেল সুরক্ষা বাহিনীর অফিসাররা প্ল্যাটফর্মে গিয়ে তাঁর উপর নজরদারি চালান। কিন্তু তাঁদের দেখে বারবার জায়গা বদল করছিলেন ওই ভুয়ো টিটি। তাঁরা বুঝতে পারেন, কিছু একটা গোলমাল রয়েছে। তখন সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া অভিযুক্তের ছবি দেখানো হয় রেলের আধিকারিকদের। তাঁরা জানান, ওই ব্যক্তি রেলের টিটি নন।
এরপরই আরপিএফ তাঁকে গিয়ে জেরা শুরু করে। তার হাতে থাকা জরিমানার বইয়ের মাপ দেখে রেল সুরক্ষা বাহিনীর অফিসাররা বুঝে যান যে, এই ব্যক্তি জাল টিকিট পরীক্ষক। দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়ে অরিত দাস জানান, তিনি আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। ট্রেনে যাতায়াত করার সুবাদে প্ল্যাটফর্মে টিটিদের কাজ কী এবং জরিমানা কীভাবে করা হয়, তা দেখেছিলেন। এরপর তার চাকরি চলে যায়। তখন দমদমের বাসিন্দা অরিতের সঙ্গে পরিচয় হয় এক ব্যক্তির। ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, রেলে টিটি পদে তাঁর চাকরি হয়ে যাবে। অভিযুক্তের দাবি, টিটির চাকরি দেওয়ার নামে করে তাঁর কাছ থেকে টাকাও নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে শিয়ালদহ, বিধাননগর সহ বিভিন্ন স্টেশনে টিটির ডিউটিও দেওয়া হয়। এভাবেই কয়েকদিন ধরে হাওড়া স্টেশনে ডিউটি করছিলেন অরিত। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় টিকিটহীন যাত্রীদের জরিমানা করে পাওয়া ২২০০ টাকা। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া জিআরপি।
রেল পুলিস জেনেছে, একটি চক্র এর পিছনে কাজ করছে। তারা বেকার যুবকদের রেলে টিটির চাকরি পাইয়ে দেবে বলে প্রতারণা করছে। তাঁদের হাওড়া বা শিয়ালদহ সহ বিভিন্ন স্টেশনে ডিউটিও দেওয়া হচ্ছে। চক্রের মাথাদের খোঁজ শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ