নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে যত ভুয়ো রেশন কার্ড আছে, সেগুলি চিহ্নিত করতে বদ্ধপরিকর খাদ্যদপ্তর। এক্ষেত্রে তারা প্রথমেই নজর দিচ্ছে ১৮ বছর বয়সের পর আবেদন করে পাওয়া রেশন কার্ডগুলিতে। কারণ, সাধারণত পাঁচ বছর বয়স হলেই শিশুর রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করে পরিবার। দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে রাজ্যের বাইরে থাকা বা নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া ১৮ বছর বয়সের পর রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করার কথা নয়। সেক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারের আমলে যাঁদের ১৮ বছর বয়সের পরে রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে, সেগুলি যাচাই করলে ‘ভুয়ো’ রেশন কার্ড সহজেই চিহ্নিত করা যাবে বলে মনে করছে সরকার। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ধরনের রেশন কার্ড প্রাপকদের তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যে এখন আইনের শাসন চলছে। অযোগ্যরা কোনো সুবিধা পাবে না। তাই এই নির্দেশ। মূলত রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৮ বছর বয়সের পর আবেদনের মাধ্যমে রেশন কার্ড প্রাপকের সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের হাতে থাকা তথ্যভাণ্ডার ধরে যাচাই তো হবেই। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করা হবে।’ প্রথম দফায় এই যাচাই হবে নদীয়া, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং দুই ২৪ পরগনা জেলায়। এর মধ্যে কলকাতা ছাড়া বাকি সবক’টি জেলাই বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন।
একই সঙ্গে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার (এএওয়াই) আওতাধীন যেসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা মাত্র এক, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবরের নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যদপ্তর। রাজ্যে এরকম এক সদস্যের অন্ত্যোদয় পরিবারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৭ হাজার। খাদ্যদপ্তর থেকে সব জেলার খাদ্য নিয়ামক ও রেশনিং অধিকর্তাকে চিঠি দিয়ে আগামী ৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যদি দেখা যায়, এএওয়াই-এর আওতাধীন কোনো সদস্যের আলাদা পরিবার আছে, তাঁকে অবশ্যই এএওয়াই কার্ডের বদলে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষার আওতায় কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি দেখা যায়, কোনো প্রকৃত এক সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের গরিব মানুষটি খুবই অসহায়, তাঁর এএওয়াই কার্ড টিকে থাকবে।
প্রসঙ্গত, এএওয়াই শ্রেণিতে পরিবার ভিত্তিক মাসে ৩৫ কেজি করে চাল-গম দেওয়া হয়। পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, সেটা বিবেচ্য হয় না। সেখানে অন্য দু’টি শ্রেণির কার্ডে মাসে মাথাপিছু পাঁচ কেজি করে চাল-গম বরাদ্দ হয়। এএওয়াই শ্রেণিভুক্তরা যেহেতু বেশি গরিব, তাই তাঁদের অধিক পরিমাণে খাদ্য দেওয়ার ব্যবস্থা অনেক বছর ধরে চালু আছে। বণ্টনে সমতা আনতে রাজ্য খাদ্যদপ্তর এক বছর আগেই এক সদস্য বিশিষ্ট এএওয়াই পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করতে নেমেছিল। প্রায় ১৬ লক্ষ পরিবারের মধ্যে সাড়ে ৩ লক্ষ এমন পরিবার চিহ্নিত করা হয়। তারপরও প্রচুর এমন পরিবার থেকে যাওয়ায় খাদ্যদপ্তর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কারণ, এর ফলে বেশি সদস্য বিশিষ্ট খুব দরিদ্র পরিবার বেশি পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার এএওয়াই গ্রাহকদের মাথাপিছু ৭ কেজি করে খাদ্য দিতে চাইছে। আমাদের দাবি, সব রেশন গ্রাহককেই ওই পরিমাণ খাদ্য দেওয়া হোক।’