


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও কলকাতা: সন্দেশখালিতে জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম অভিষেক তেওয়ারি। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের একটি হোটেল থেকে পুলিস তাকে পাকড়াও করেছে। ট্রানজিট রিমান্ডে অভিষেককে রবিবার সন্দেশখালি থানায় আনা হয়েছে। আজ, সোমবার তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করবে পুলিস। উল্লেখ্য, জাল নোট কাণ্ডে এর আগে অভিষেকের তিন সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে সন্দেশখালি থানা। এই কারবারে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেকের বাড়ি কলকাতার গল্ফগ্রিনে। দিল্লিতেও তার বাড়ি রয়েছে। জাল নোট কারবারের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা যায় তাকে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিষেকের নেতৃত্বেই বাংলা সহ গোটা দেশে জান নোটের একটি এই চক্র সক্রিয়। একটি প্রতারণার মামলায় আগেও পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল অভিষেক। ভুয়ো কোম্পানি খুলে ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেভাবেই আসানসোলের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। জেলমুক্তির পর সে আবারও পুরনো ফর্মে ফেরে। সন্দেশখালির জাল নোট কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকে পুলিস হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছিল। অবশেষে ঘটনার সাতদিনের মাথায় মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিস।
প্রসঙ্গত, ১৯ জুলাই সন্দেশখালির ধামাখালিতে একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে উদ্ধার হয় আসল ও জাল নোট মিলিয়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকা। তার মধ্যে ন’কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়। হোটেল থেকে সিরাজউদ্দিন মোল্লা ও দেবব্রত চক্রবর্তী নামে দু’জনকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিস। তাদের জেরা করে চক্রের এক ‘রহস্যময়ী’র হদিশ পায় পুলিস। তিস্তা নন্দী নামে চক্রের সেই পান্ডাকে বীরভূমের রামপুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের খবর, দেবব্রত ও সিরাজউদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিস্তা ও অভিষেক বাইরে পালানোর ছক করে। হাওড়া স্টেশন থেকে তারা ট্রেন ধরে। তিস্তা চলে যায় রামপুরহাটে। আর অভিষেক চলে যায় নাগপুর। তিস্তা গ্রেপ্তার হতেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যায়। বসিরহাট পুলিস জেলার এক কর্তা বলেন, ‘এই চক্রের মাথা অভিষেকই। তাকে আরও জেরা করার প্রয়োজন রয়েছে। সবটাই আমরা খতিয়ে দেখছি।’