


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভেজাল ওষুধ ধরতে ওষুধ কেনার সময় মোবাইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওষুধের স্ট্রিপে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করা উচিত। এমনই কথা বলছেন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। পাশাপাশি খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও ওষুধ স্টকিস্ট বা ক্যারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের কাছ থেকে নেওয়ার সময় গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কিউআর কোড যাচাই করে নেওয়া উচিত বলেই মনে করছে ড্রাগ কন্ট্রোল। এনিয়ে নির্দেশ জারি করবার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। এছাড়া ওষুধ কেনার সময় সাধারণ মানুষের আর কী কী করা উচিত, অভিযোগ জানানোর থাকলে কোথায় জানাবেন—সেসব তথ্যসহ খসড়া নির্দেশনামা প্রকাশের আগে নবান্নের চূড়ান্ত অনমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, শিডিউল এইচ তালিকার ৩০০টি ব্র্যান্ডের ওষুধের কিউআর কোড স্ক্যান করা সংক্রান্ত নির্দেশ ইতিমধ্যেই ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। এদিকে, আমতা কাণ্ডে ভেজাল ওষুধ ধরতে টানা হানা চলছে ড্রাগ কন্ট্রোলের। তদন্ত করতে গিয়ে পুলিস ও ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকরা জানতে পেরেছিলেন, সবসুদ্ধ প্রায় ২ কোটি টাকার ভেজাল ওষুধ কিনেছিলেন ধৃত ওষুধ ব্যবসায়ী। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ১৭ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ। আরও খোঁজখবর নিয়ে বাগড়ি মার্কেটে তার আরও একটি দোকানের সন্ধান মিলেছে। সেখানে প্রথম দফায় হানা দিয়ে ২ লক্ষ টাকার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ফের হানা চলেছে বাগড়ির পাশাপাশি গান্ধী মার্কেটেও। উদ্ধার হয়েছে আরও দেড় লক্ষ টাকার ভেজাল ওষুধ। বস্তুত, আমতায় জাল ওষুধ ধরার পড়া থেকেই রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকদের রীতিমতো ঘুম ছুটেছে। কারণ, ওই ওষুধ ব্যবসায়ীর বিহার থেকে কেনা বেশিরভাগ জাল ওষুধের কোনও খোঁজখবরই মেলেনি এখনও। যেভাবে কিউআর কোড এবং ব্যাচ নম্বর দুইই জাল করা হয়েছে, তাতে এর পিছনে বড়সড় আন্তঃরাজ্য গ্যাং থাকতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।