নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নিজেকে শিশু বিশেষজ্ঞ ও জেনারেল ফিজিশিয়ান বলে প্যাড ছাপিয়ে চুটিয়ে প্র্যাকটিস করছেন এক ভুয়ো চিকিৎসক। নন্দকুমারের রাজীব পার্কের কাছে তিনি চেম্বার করছেন। পাশাপাশি, নার্সিংহোম খুলে রোগীও ভর্তি করাচ্ছেন। ওই ব্যক্তি বিনা লাইসেন্সে প্র্যাকটিস ও নার্সিংহোম খোলার ঘটনা জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের নজরে এসেছে। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায় বলেন, গুরুতর ঘটনা। অবিলম্বে নন্দকুমার থানায় জানানো হবে।
জানা গিয়েছে, নন্দকুমার থানার হাঁসগেড়িয়ার বাসিন্দার ডাক্তারি ডিগ্রি নেই। অথচ, ব্যানারে নিজের নামের আগে ডাক্তার লিখে চুটিয়ে প্র্যাকটিস করছেন। ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের মতো নিজে প্যাড ছাপিয়েছেন। সেই প্যাডেও নামের আগে ডাক্তার লেখা। পাশাপাশি প্যাডে নিজেকে শিশু ও জেনারেল ফিজিশিয়ান বলে দাবি করা আছে। চেম্বারের ভিতর রয়েছে হাসপাতালের একাধিক বেড। সেখানে স্যালাইন থেকে ওষুধপত্র ও মেডিক্যাল সরঞ্জামে ঠাসা। শিশুদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলে।
স্থানীয়রা বলেন, কোনও ডিগ্রি ছাড়াই ওই ব্যক্তি রোগী দেখছেন। বিনা লাইসেন্সে নার্সিংহোম চালাচ্ছেন। একেবারে ব্লক সদরে এমন ঘটনা ঘটার পরও প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্যদপ্তর চুপ। এর আগে নন্দকুমারের বাবলপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ফেল করেও ডাক্তারির ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে আসে। রাতারাতি হোর্ডিং খুলে নেওয়া হলেও প্র্যাকটিস বন্ধ হয়নি। সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে খবরের পরও স্বাস্থ্যদপ্তর ও প্রশাসন চুপচাপ। নন্দকুমারে রাজীব পার্কের ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটছে। প্রশাসনের কবে টনক নড়বে?
জানা গিয়েছে, সোমবার নন্দকুমারের বেশ কয়েকজন বিষয়টি পুলিশের নজরে নিয়ে আসেন। বিষয়টি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নজরেও আনা হয়। ওই চিকিৎসকের প্যাড, নার্সিংহোমের ছবি দেখে অবাক হন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। এর আগে নন্দকুমার থানার পুলিশ একটি অভিযোগের ভিত্তিতে নরঘাটে চেম্বার করার সময় এক ভুয়ো চিকিৎসককে হাতেনাতে পাকড়াও করেছিল। নন্দকুমারে রাজীব পার্কে ওই ভুয়ো চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ করার তোড়জোড় শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর।
নন্দকুমারের ওই ভুয়ো চিকিৎসক বলেন, আমি গ্রামীণ চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখি। তবে, প্যাডে শিশু বিশেষজ্ঞ ও জেনারেল ডাক্তার লেখাটা ঠিক হয়নি। আমি এই ভুল শুধরে নেব। চেম্বারে বেড রাখা হলেও রোগী ভর্তি করা হয় না। অনেক সময় ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর কিছুক্ষণ রোগীকে অবজার্ভেশনে রাখতে হয়। সেজন্য বেড রাখা আছে।পূর্ব মেদিনীপুরের সিএমওএইচ বিভাস রায় বলেন, এভাবে প্যাড ছাপিয়ে চেম্বার করা বেআইনি। গোটা বিষয়টি নজরে এসেছে। অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশ করা দরকার। সেইমতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নন্দকুমারে ভুয়ো চিকিৎসকের প্যাড।-নিজস্ব চিত্র