স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: গাড়ির আসল নম্বরপ্লেট বদল—এটাই এখন শহরে গাড়ি মেরামতির অন্যতম কেন্দ্র মল্লিকবাজারে ‘গোপন ব্যবসা’। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বদল করে যে নম্বরপ্লেট দেওয়া হচ্ছে, সেটি কিন্তু ভুয়ো বা নকল নয়! শহরের রাস্তায় চলা কোনও না কোনও গাড়িরই নম্বর। এই অসাধু কারবারের উদ্দেশ্য কী? কেনই বা গাড়ির মালিক বা চালক আসল নম্বরপ্লেট বদলে অন্য কোনও গাড়ির নম্বর নিজের গাড়িতে লাগাতে চাইছেন? কারণ একটাই! ট্রাফিকবিধি ভাঙলেও জরিমানার মেসেজ যাবে না আইন ভঙ্গকারীর মোবাইলে। তার বদলে সেই বার্তা চলে যাবে যে গাড়ির নম্বরপ্লেট ‘নকল’ করা হয়েছে, তার মালিকের কাছে। পুলিসের চোখে ধুলো দিয়ে জরিমানা ফাঁকি দেওয়ার এই ব্যবস্থা করতে খরচ পড়ছে মাত্র ৩০০ টাকা। সময় লাগছে সাকুল্যে আড়াই থেকে তিন মিনিট।
সম্প্রতি কলকাতা পুলিসের ট্রাফিক গ্রিভান্স সেলে এক যুবক লিখিত অভিযোগ জানান। সেখানে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাইক রাস্তায় বের করেননি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে জরিমানার চারটি মেসেজ এসেছে তাঁর ফোনে। তদন্তে নামে ট্রাফিক বিভাগের স্পেশাল রেইড শাখা। দেখা যায়, অভিযোগকারীর বাইকের নম্বর লাগিয়ে শহরের
রাস্তায় চলছে একটি স্কুটার। সেটি আটক করে পুলিস। স্কুটার চালকের নাম মহম্মদ সরফরাজকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা এড়াতেই মল্লিকবাজার থেকে নম্বরপ্লেট বদল করে নিয়েছেন তিনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিস।
মল্লিকবাজারে গিয়ে দেখা গেল, রাস্তার উপর নম্বরপ্লেট বদলের কোনও দোকান বা স্টল নেই। একটু ভিতরে ঢুকলেই দালাল গোছের একজন এগিয়ে এসে বলল, ‘নম্বর লাগেগা? ৩০০ রুপিয়া অনলি’। কেউ আগ্রহ দেখালে আরও ভিতরে ঘুপচি ঘরে নিয়ে যাওয়া হবে। গোছা গোছা নম্বরপ্লেট ঝুলছে সেখানে। কোনওটি গ্রাফিক্স দিয়ে সাজানো, কোনওটি স্রেফ হাতে লেখা। গ্রাফিক্স সজ্জিত নম্বরপ্লেটের দাম ১০০ টাকা বেশি। নম্বরপ্লেট পছন্দ করে টাকা মেটাতে হবে। তবে গাড়ি বা বাইকে সেই প্লেট লাগাতে হবে এ জে সি বোস রোডের উপরের দালালের নির্দিষ্ট করে দেওয়া দোকান থেকেই। ক্রেতাকেই সেই দোকান পর্যন্ত হাতে করে আনতে হবে অবৈধ নম্বরপ্লেট। এরপরে ট্রাফিকবিধি ভাঙলেও সংশ্লিষ্ট চালকের মোবাইল নম্বরে আসবে না জরিমানার মেসেজ।
পুলিস সূত্রে খবর, যেসব গাড়ি ও বাইক রাস্তায় চলে, মূলত সেই সব যানের নম্বর নকল করা হচ্ছে। কোন গাড়ির নম্বর নকল করে কোন গাড়িতে বসানো হচ্ছে, তার কোনও হিসেব রাখা হয় না। শুধু বৈধ নম্বরটি কোনওভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে মল্লিকবাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিংবা সেখানে গাড়ি মেরামতি করতে আসা গাড়ি থেকেও ‘চুরি’ করা হতে পারে নম্বর। এভাবে গাড়ির নম্বর বদল করে কোনও অপরাধ সংগটিত হলে তদন্তপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটবে বলে আশঙ্কা লালবাজারের। এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘বিষয়টি উচ্চপদস্থ কর্তাদের নজরে আনা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’