নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শুক্রবার দুর্গাপুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির অন্দরে সাজো সাজো রব। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা দফায় দফায় নেহেরু স্টেডিয়াম পরিদর্শন করছেন। সেখানে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা। আর তার থেকে দু’ কিলোমিটার দূরেই হতাশার সুর। দুর্গাপুরের রাজীব গান্ধী ময়দানে চলছে রথের মেলা। প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচির জন্য দ্রুত মেলা গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এসেছে। মেলার মাঠে ক্রমাগত সেই ঘোষণা করা হচ্ছে। তাই কিছুটা ভীত হয়েই দ্রুত নিজেদের পসরা গোছানো শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। দুর্গাপুরে রথের মেলা এই অঞ্চলের অন্যতম বড় মেলা। রাজীব গান্ধী ময়দান বা চিত্রালয়ের এই মেলা ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ রয়েছে। বিপুল কেনাকাটার আশায় দূর দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে এসে দোকান দেন। ব্যবসায়ীদের চাহিদা দেখে মেলার স্টলগুলির ভাড়াও লাফিয়ে বেড়েছে। এক চিলতে দোকানেরও ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া। তবু ব্যবসায়ীরা আসেন কারণ, মাসখানেক ধরে চলা মেলায় বিক্রিবাটা ভালো হয়। এবার কিন্তু উল্টো চিত্র। মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুর্গাপুরে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। জলকাদা ঠেলে মেলায় দর্শনার্থী আসার সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। বিক্রিবাটাও লাটে উঠেছে। শেষ তিনদিন আকাশ পরিষ্কার হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, ১৩ জুলাই সরকারি ভাবে মেলা শেষ হলেও ভাঙা মেলা ক’দিন বাড়তি চালিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন তাঁরা। কিন্তু মেলার বিক্রেতাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি। জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি নেহরু স্টেডিয়ামে সভা করলেও সভাস্থলে আসা গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে এই ময়দানে। তাই দ্রুত মাঠ পরিষ্কার করার ফরমান এসেছে। মেলার ফুটপাতেই পাঁপড় বিক্রি করছেন শঙ্কু দুবে। তিনি বলেন, আমাদের উপর তো কোন ছাদন থাকে না তাই বৃষ্টিতে একদিনও ব্যবসা করতে পারেনি। আমাকেও আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়েছে মেলা কমিটিকে। আচার বিক্রেতা সুবল অধিকারী বলেন, এত বছর মেলায় দোকান করছি, এত বড় ক্ষতির মুখে কখনও পড়িনি। মেলা কমিটির সম্পাদক তপন মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মেলার ব্যবসায়ীদের মাইকিং করে সতর্ক করার জন্য। আমরা তা করছি। বৃষ্টিতে এবার কেনাকাটা কম হয়েছে ঠিকই। প্রধানমন্ত্রীর সফর না থাকলে হয়তো মেলা কয়েকদিন বেশি রাখার অনুরোধ করতাম। কিন্তু এখন আমাদেরও কিছু করার নেই। বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটির সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।



