নয়াদিল্লি: ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর কোথাও হিরো, কোথাও জিরো। বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের জন্য এই সংস্থাকেই কাঠগড়ায় তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বঙ্গে ব্যর্থ হওয়ায় সংস্থার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে একই পথে হাঁটল সমাজবাদী পার্টি। মহারণের জন্য ওই সংস্থার সঙ্গেই চুক্তি করেছিল অখিলেশ যাদবের দল। কিন্তু, বঙ্গে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর সেই নিয়ে আরও এগতে চাইছে না তারা। দলীয় সূত্রে খবর, আইপ্যাক এখনও মাঠে নেমে কাজ শুরু করেনি। অখিলেশকে কিছু প্রেজেন্টেশন দেখিয়েছে। ভোট নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। কিন্তু, বঙ্গে তাদের ব্যর্থতার পর সপা সুপ্রিমো আর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
এদিকে তামিলনাড়ুতে হিরোর মর্যাদা পাচ্ছেন আইপ্যাকের প্রাক্তন কর্তা কপিল সাহু। বলা হচ্ছে, বিজয়ের দল টিভিকের বিপুল জয়ের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। মাত্র দু’বছর বয়সি দলের জন্য প্রচার পরিকল্পনা, কৌশল তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ সহ নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন তিনি। প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে পছন্দ করেন কপিল। এবারও তার অন্যথা হয়নি। আড়াল থেকে রণকৌশল তৈরি করে টিভিকেকে মসনদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন প্রাক্তন এই আইপ্যাক কর্তা। বেশ কয়েকবছর আগে ১২ জন সহযোগীকে নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের ভোটকুশলী সংস্থা ত্যাগ করেছিলেন কপিল। পরে নিজের সংস্থা তৈরি করেন। সাম্প্রতিক অতীতে আম আদমি পার্টি, সিকিম ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট সহ আরও বেশ কিছু দলের হয়ে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছে তারা। প্রসঙ্গত, বিজয়ের দলের শুরুটা মোটেই সুখকর হয়নি। কারুরে জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছিল। জখম হন কমপক্ষে ৮০ জন। সেই ঘটনাতে ঘিরে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বেশ জলঘোলা হয়। এই সবকে ছাপিয়ে অভিনেতা হিসেবে বিজয়ের জনপ্রিয়তা, তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও স্বপ্নকে তুলে ধরতে ঘুঁটি সাজায় কপিল ও তাঁর টিম। তাতেই বাজিমাত। এরইমধ্যে প্রশান্ত কিশোরের এক পুরনো ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে বিজয়ের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন খ্যাতনামা ভোটকুশলী।