


মুম্বই: পদ একটিই। তার জন্য নিয়োগপত্র দেওয়া হল দু’জনকে। নিয়োগকর্তাও দুই। বৃহন্মুম্বই ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (বিইএসটি)-এর জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাত মহারাষ্ট্র সরকারের অন্দরে। একদিকে, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। অন্যদিকে, উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে এই শরিকি টানাপোড়েনকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা।
জানা গিয়েছে, বিইএসটির জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অশ্বিনী যোশীকে নিয়োগ করেন নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিন্ধে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই পদে আর একজনকে নিয়োগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী ও উপ মুখ্যমন্ত্রীর এই সংঘাত নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তা নিয়ে তুমুল অস্বস্তি তৈরি হয় প্রশাসনিক মহলে। যদিও বিতর্ক শুরু হতেই ফড়নবিশের সাফাই, বিইএসটি নিয়ে আমি কোনও সিদ্ধান্ত নিই না। বৃন্মুম্বই পুরসভাই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অন্যদিকে নগরোন্নয়ন দপ্তরের দাবি, যোশীর নিয়োগ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি।
নজিরবিহীন ওই সংঘাত নিয়ে শাসক জোটকে নিশানা করেছে উদ্ধব-গোষ্ঠীর অনুমোদিত কর্মী সংগঠন কামগার সেনা। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনা সরকারের মধ্যে দুই গোষ্ঠীর সংঘাতকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সরব কংগ্রেসও। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধনের কথায়, গুরুত্বপূর্ণ পদে আস্থাভাজনদের বসাতে মুখ্যমন্ত্রী ও উপ মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে গ্যাংওয়্যার শুরু হয়েছে। শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র নেতা আদিত্য থ্যাকারের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ও গদ্দারনাথ মিন্ধের (সিন্ধেকে কটাক্ষ করে এই নামেই ডাকেন তিনি) মধ্যে পারম্পরিক বোঝাপড়া প্রায় একেবারেই ছিল না। এখন আর কোনও কিছু অবশিষ্ট নেই।