সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সকালে হাসপাতাল চত্বরের বাইরে চা খেতে গিয়েছিলেন সুপার স্পেশালিটির এজেন্সির ফেসিলিটি ম্যানেজার ধ্রুব রঞ্জন চৌধুরী। সাড়ে দশটা নাগাদ চায়ের দোকান থেকে তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। দোকানের আশপাশের লোকজন ও সহকর্মীরা বাধা দিতে গেলে দুষ্কৃতীরা গুলি করার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ খবর পেয়েই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সব থানাকে অ্যালার্ট করে। ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তপন থানার দাঁড়ালহাট এলাকার জঙ্গল থেকে ম্যানেজারকে উদ্ধার করে পুলিশ। বালুরঘাট এবং তপন থানার যৌথ অভিযানে মূল অভিযুক্ত ধরা পড়লেও বাকিরা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। দক্ষিণ দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিষয়টি জানার পরই সব থানাকে অ্যালার্ট করে দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে তপনের দাঁড়াল হাট থেকে ম্যানেজারকে উদ্ধার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। কী কারণে এই অপহরণ, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধ্রুব রঞ্জন চৌধুরী দীর্ঘদিন বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ের সিকিউরিটি সহ অন্য কাজকর্ম সামলান। মূল অভিযুক্ত মোকলেস মিয়াঁও আগে হাসপাতালে ওই এজেন্সির কর্মী ছিল। এখন সে হাসপাতালে কাজ করে না। তার বিরুদ্ধে থানায় জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ফেসিলিটি ম্যানেজার ধ্রুব ও ধৃত মোকলেসের মধ্যে টাকাপয়সা নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। সে কারণেই অভিযুক্ত মোকলেস ম্যানেজারকে অপহরণ করে। এদিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ হাসপাতালের পেছনের গেটের কাছে একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন ধ্রুব। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে নিয়ে ধ্রুবর গতিবিধিতে নজর রাখছিল। চায়ের দোকানেই দুষ্কৃতীরা ধ্রুবকে ঘিরে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী ম্যানেজারকে জোর করে গাড়িতে তুলে। স্থানীয় এবং সহকর্মীরা বাঁচাতে গেলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয়। গুলি চালানোর হুমকি দিতেই বাকিরা সরে যায়। ধ্রুবকে গাড়িতে তুলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ির নম্বর প্লেটও ঢাকা ছিল। ওই গাড়ি রওনা দেওয়ার পরই মূল অভিযুক্ত স্কুটার নিয়ে পেছন পেছন যায়। পরে কোথাও গিয়ে ওই গাড়িতে উঠে পড়ে।হাসপাতালের বাইরে থেকে ফেসিলিটি ম্যানেজারকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় এবিষয়ে মুখ খুলতে চাননি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, এটা হাসপাতালের বিষয় নয়। ধ্রুবর মা সুচেতা চৌধুরী বলেন, দুষ্কৃতীদের শাস্তির দাবিতে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করব। • অপহরণের ঘটনায় ধৃত। - নিজস্ব চিত্র।