Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ রিলে চুরির কিনারা, পরিচারিকার থেকে উদ্ধার দামি বেনারসি ও সোনার গয়না

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ রিলে চুরির কিনারা, পরিচারিকার থেকে উদ্ধার দামি বেনারসি ও সোনার গয়না
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কাল হল রিল বানিয়ে। সেই রিল আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে ‘লাইক আর ভিউজ’ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল পরিচারিকা। মালকিন ও তাঁর মেয়ের বেনারসি আর সোনার গয়নায় সেজে হাসিমুখের ‘পোজ’ই শেষমেশ বিপদ ডেকে আনল। ওই শাড়ি আর গয়নাই চিনিয়ে দিল তাকে। চুরির অভিযোগে পাকড়াও করা হয়েছে তাকে। এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। পুলিস সূত্রে খবর, ধৃত পরিচারিকার নাম পূজা সর্দার। তাকে জেরা করে মোট তিনটি বেনারসি শাড়ি ও সোনার গয়না উদ্ধার করেছে পুলিস।

Advertisement

মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা আশিস দাশগুপ্তের বাড়িতে কাজ করত পূজা। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আশিসবাবুরা সপরিবারে বাইরে গেলে সেই সুযোগে আলমারি খুলে মেয়ের বিয়ের বেনারসি ও তাঁর স্ত্রীর দু’টি শাড়ি চুরি করে সে। পাশাপাশি কিছু সোনার গয়নাও হাপিশ করে দেয়। কিছুদিন পর ওই বেনারসি পরে রিল বানায় পূজা। সঙ্গে হাতে, কানে গলায় মালকিনের গয়না। এই ‘সোনালি সাজ’ সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের না দেখালে কী হয়! ফলে ওই রিল সরাসরি পোস্ট করে দেয় ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে। এদিকে, ফেসবুকে পূজার রিল দেখে আঁতকে ওঠেন আশিসবাবুর মেয়ে। নিজের বিয়ের শাড়ি ও গয়না ঠিক চিনতে পারেন। তড়িঘড়ি তাঁরা আলমারি খুলে দেখেন, ওই শাড়ি, গয়না উধাও। রিলের স্ক্রিনশট নিয়ে মধ্যমগ্রাম থানায় যান আশিসবাবু। হাতে গরম তথ্যপ্রমাণ পেয়ে পুলিস গ্রেপ্তার করে পরিচারিকাকে। পূজা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত নিউ বারাকপুরে। কিন্তু ওই ঘটনার পর নিউ বারাকপুরের বাড়ি ছেড়ে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে ভাড়া ওঠে সে। কিন্তু বাড়ি বদল করেও শেষরক্ষা হল না। মধ্যমগ্রাম থানার দুই এসআই দীপঙ্কর ঘোষ ও অনুপ বিশ্বাস সেখানে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। জেরায় প্রথমে চুরির কথা এড়ালেও বেনারসি শাড়ির ছবি দেখাতেই ভেঙে পড়ে সে। পূজা পুলিসকে জানায়, সোনার গয়না সে রেখে এসেছে বাপের বাড়ি শাসনে। আর শাড়িগুলি তার কাছেই আছে। অবশেষে তা উদ্ধার করেছে পুলিস। এদিন আশিসবাবু বলেন, ওই ছবিই অভিযুক্তকে ধরিয়ে দিল।
এদিকে, মধ্যমগ্রাম চৌমাথার বাসিন্দা পেশায় অধ্যাপিকা পুষ্প বৈরাগীর পরিচারিকা আলমারি থেকে প্রায় ৮০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না চুরি করে চম্পট দিয়েছিল। পুলিস তদন্ত চালিয়ে আপাতত ৩৮ গ্রাম ওজনের গয়না উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিস। এছাড়াও খোয়া যাওয়া বাইক এবং স্কুটার উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যমগ্রামের বিধাননগরে থাকেন চৈতালি চক্রবর্তী। তাঁর মেয়ে ফ্রান্সে থাকলেও সম্প্রতি তিনি বাড়িতে এসেছেন। অনলাইন গেমের ফাঁদে পড়ে তিনি ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা খোয়ান। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ওই টাকা উদ্ধার করে পুলিস। এদিন ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৬৪ টাকার চেক তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ