Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চোখে সংক্রমণ, নিজের কেন্দ্রের সঙ্গে জেলায় জেলায় প্রচারও, তরুণের স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলেছেন ২৯’এর আফরিন

বুধবার প্রচারে আসতে একটু দেরি হয়ে গেল। সাধারণত এরকম হয় না বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগমের।

চোখে সংক্রমণ, নিজের কেন্দ্রের সঙ্গে জেলায় জেলায় প্রচারও, তরুণের স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলেছেন ২৯’এর আফরিন
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার প্রচারে আসতে একটু দেরি হয়ে গেল। সাধারণত এরকম হয় না বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগমের। এদিন কী এমন হল? জানা গেল, চোখের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন প্রার্থী। চোখের এক অংশ সংক্রমণের কারণে লাল। তাঁকে চশমা পরতে বলেছেন চিকিৎসক। কিন্তু তাতে অস্বস্তি। আর সানগ্লাস পরে প্রচার করতে রাজি নন ২৯ বছরের তরুণী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আফরিন জানালেন, মাঝেমধ্যে কড়কড় করছে চোখ। 

Advertisement

সৎ-নির্ভীক-শিক্ষিত, এমন তরুণের চোখে দিন বদলের স্বপ্ন থাকে। সে চোখে সমাজ পাল্টানোর জেদ থাকে। বালিগঞ্জে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আফরিন বলছেন, ‘আমি বালিগঞ্জের মেয়ে। যাদবপুরে গবেষণা করছি। বালিগঞ্জকে নতুন করে সাজাব।’ কোনো বহুতলের বারান্দা থেকে কেউ হাত বের করে বললেন, ‘দেশটাকেও বাঁচাতে হবে মা।’
আফরিনকে নিয়ে মানুষের প্রবল উত্সাহ। জনগণের মন বুঝে তাঁকে মুর্শিদাবাদে প্রচারে পাঠিয়েছিল সিপিএম। বালিগঞ্জের বাইরে টালিগঞ্জে গিয়েও বাম প্রার্থীর সমর্থনে সভা করেছেন। মুর্শিদাবাদে থাকাকালীনই সমাজমাধ্যমে ছড়ায় আফরিন অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি। বুধবার তিনি বলেন, ‘আমার কাছেও সেদিন বিকেল থেকে ফোন আসছিল। হাসপাতালে ভর্তি হইনি।’ বালিগঞ্জ ঘিরে তাঁর অনেক স্বপ্ন। বললেন, ‘নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করব। মহিলাদের প্রয়োজনের জন্য অ্যাপ করা হবে। পরিবেশ বাঁচানোর স্কোয়াড, শূন্যপদ পূরণ, শৌচাগার, পানীয় জলের সমাধান করব।’ জানালেন, ওয়ার্ড ধরে ধরে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান স্থির করেছেন। গরম হলেও ছাতা খুব একটা ব্যবহার করেন না। লাল টুপি মাথায় দেন। ১৯ মে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে আফরিনের নাম ঘোষণা হয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যা থেকে প্রতিদিন প্রচার করছেন। তিনটি ভাষা বলতে পারেন আফরিন। প্রচারে কেউ হিন্দিতে কথা বলে আফরিন হিন্দিতেই জবাব দেন। বুধবার একটি বাড়ির দরজায় পৌঁছলেন। এক মহিলা হাত ধরে নিলেন আফরিনের। ‘আমরা তোমাকে চিনি। আর বলতে হবে না। ভিতরে এস...।’ 
তাঁর বিপক্ষে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। আফরিনের বক্তব্য, ‘উনি আমার চেয়ে অনেক আগে রাজনীতিতে এসেছেন। ওঁকে শুভেচ্ছা।’ মাঝে মধ্যে লাল ওড়নায় কপালের ঘাম মুছে নিচ্ছেন এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির প্রাক্তন সদস্য। মুছতে কি পারবেন কাস্তে হাতুড়ির শূন্যের গেড়ো? পার্টির নেতারা বলছেন, ‘পরিশ্রম তো করছে। রেসপন্সও ভালো।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ