‘সাফল্য আমাকে অহংকারী করেনি। আর এর পুরো কৃতিত্ব শৈশবের লালন-পালন ও মূল্যবোধের’— এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সাফল্যের সংজ্ঞা নায়িকার অভিধানে খানিক অন্যরকম। ভিন্নধারার গল্প নির্বাচন, বক্স অফিসে হিট, চ্যালেঞ্জিং চরিত্র— এসব দিয়ে তাঁর সাফল্য নির্ধারণ করেন দর্শক। নির্ধারণ করে ইন্ডাস্ট্রি। আর শুভশ্রী নিজে? দিনের শেষে পরিবারের হাসিমুখ আর শান্তির ঘুম। এটাই তাঁর সাফল্য। যদিও বাহ্যিক মাপকাঠিতে ২০২৫ সালের শুরু থেকে শেষ— সবটা জুড়েই তিনি।
কেন বছরটা শুভশ্রীর কাছে স্পেশাল? প্রথমত, ২০২৫-এ কেরিয়ারে ‘সাবালক’ হওয়ার শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে তিনি। অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্রিতে ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেন। এবার ১৮-তে পা দেবেন নায়িকা। ২০০৮-এ মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘পিতৃভূমি’। গত কয়েক বছর ধরেই তিনি কেবল আর নায়িকা নন। হয়ে উঠেছে অভিনেত্রী। নিঃসন্দেহে রাজ চক্রবর্তীর ‘পরিণীতা’র হাত ধরেই সেই জার্নির সূচনা। সেই বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ হল ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের ‘গৃহপ্রবেশ’ ছবিতে। মাঝে কখনও ‘ইন্দুবালা’, কখনও ‘সন্তান’-এ নিজেকে প্রমাণ করেছেন শুভশ্রী। ‘অনুসন্ধান’-এ চমকে দিয়েছেন। বছর শেষ করবেন ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ দিয়ে।
২০২৫ স্পেশাল হয়ে থাকবে ‘ধূমকেতু’র জন্য। একমঞ্চে ছবির প্রমোশনের জন্য দেব-শুভশ্রী। গত ১০ বছর ধরে এটাই তো চেয়েছিলেন অনুরাগীরা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শুভশ্রীর উত্তর শুনলেও বোঝা যায় আক্ষরিক অর্থেই পরিণত হয়েছেন ‘পরিণীতা’। বিতর্ক সামলানোর সহজ কায়দাও রপ্ত করে ফেলেছেন শুভশ্রী। মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শীতলতা নিয়ে টলিউডের আলোচনা নতুন নয়। সেখানেও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন তাঁরা। চলতি বছর পুজোয় এক বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের সহজ সম্পর্কের ভিডিও সেসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
ব্যক্তি জীবনেও শুভশ্রী যেন ট্রেন্ড তৈরি করছেন। দুই সন্তান ইউভান, ইয়ালিনির সঙ্গে কাটানো তাঁর বিভিন্ন মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে হামেশাই শেয়ার করেন অভিনেত্রী। বলিউড যেখানে দীপিকা পাড়ুকোনের আটঘণ্টা কাজের দাবি নিয়ে তোলপাড়, শুভশ্রী কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজের রুটিন তৈরি করে নিয়েছেন নিজস্ব ছন্দে। ‘মা হওয়ার পর আমার শর্ত অনুযায়ী পরিচালক, প্রযোজকরা কাজ করতে রাজি হয়েছেন। তাতে কারও কোনও সমস্যা হয় না’, বলেছেন নায়িকা।
এখানেই স্বতন্ত্র শুভশ্রী। বছরটাও ‘শুভশ্রীময়’।