নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভোট মিটেছে, ফলও প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় যখন তুঙ্গে তখন বীরভূমের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের ৫৩ হাজার উপভোক্তার মনে গভীর সংশয় দানা বেঁধেছে। এই ৫৩ হাজার উপভোক্তা বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরইমধ্যে সরকার বদলে গিয়েছে। তাই আগের সরকারের চালু হওয়া প্রকল্পের বকেয়া টাকা মিলবে কি না তা নিয়েই ঘুম উড়েছে উপভোক্তাদের। মুরারইয়ের আমডোলের নাবিয়াতুন বেওয়া থেকে শালবাদরার প্রেমানন্দ হাঁসদাদের একটাই প্রশ্ন, ‘বর্ষা দোরগোড়ায়। তার আগে বাকি টাকাটা পাব তো?’
২০২২সাল থেকে আবাস যোজনার বরাদ্দ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ‘দিল্লির দয়া চাই না, রাজ্যই গরিবদের বাড়ি দেবে।’ তাঁর ঘোষণামতো ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের পর থেকে প্রথম পর্যায়ে উপভোক্তাদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। বীরভূম জেলায় প্রথম দফায় প্রায় ৫৩হাজার ২৮০ জন উপভোক্তা বাড়ি তৈরির বরাদ্দ পেয়েছিলেন। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করে ফেলেছেন।
বিপত্তি বেঁধেছে দ্বিতীয় পর্যায়ে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে গত জানুয়ারি মাসে সিঙ্গুরের সভা থেকে নতুন করে এই সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়। বীরভূম জেলায় ৫৩ হাজার বাসিন্দার বাড়ি তৈরির টাকা বরাদ্দ হয়। ৩ মার্চের মধ্যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকেও যায়। নিয়ম অনুযায়ী, সকলের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু তার আগেই রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এরফলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়া নিয়ে উপভোক্তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কবে কীভাবে দেওয়া হবে তা নিয়ে আমরাও অন্ধকারে রয়েছি।’
শালবাদরার প্রেমানন্দ হাঁসদাও সেই একই দলে শামিল। দিনমজুর এই মানুষটি স্বপ্ন দেখেছিলেন এবার অন্তত পাকা ছাদ হবে। তাঁর অসমাপ্ত ঘরের দিকে তাকিয়ে এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৫৩ হাজার উপভোক্তার মধ্যে অধিকাংশই নির্বাচিত হয়েছেন ‘আবাস প্লাস’ তালিকা থেকে। তবে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হল প্রায় ১০ হাজার উপভোক্তা, যাঁদের নাম বরাদ্দের তালিকায় উঠেছিল ‘দিদিকে বলো’তে ফোন করে। কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়। ‘বিশেষ’ কারণে নির্বাচিত এই উপভোক্তাদের ভাগ্য এখন ঝুলে রয়েছে নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের উপর।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নতুন সরকার কি আগের সরকারের এই ‘বিশেষ’ তালিকা মেনে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বরাদ্দ করবে? নাকি কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সঙ্গে একে সংযুক্ত করা হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্যের পোর্টালের সঙ্গে কেন্দ্রের ‘আবাস সফট’ পোর্টাল সংযুক্ত করা খুব কঠিন না হলেও শুধুমাত্র দ্বিতীয় কিস্তির জন্য কেন্দ্র অনুমোদন দেবে কিনা তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এক সরকারের বিদায় ও অপর সরকারের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বীরভূমের প্রান্তিক মানুষের অপেক্ষা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।