


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দূরপাল্লার ট্রেনে কী নিয়ে সবথেকে বেশি অসন্তুষ্ট থাকেন সাধারণ রেল যাত্রীরা? সেই তালিকায় শীর্ষে থাকবে খাবারের গুণগত মান। আর ক্ষোভের তালিকায় এরপরেই স্থান পায় পরিচ্ছন্নতা। রেলের কামরা হোক বা শৌচালয়—অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ট্রেনের জেনারেল ক্লাসের যাত্রীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, বাতানুকূল শ্রেণিতে যেভাবে কামরা এবং শৌচালয় পরিষ্কার করা হয়, জেনারেল ক্লাসে তার ছিঁটেফোটাও দেখা যায় না। রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মূলত নিম্ন মধ্যবিত্তদের মন পেতে তাই এবার ট্রেনের জেনারেল ক্লাসে নজর ঘোরাতে মরিয়া হয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার।
গত শনিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাসের সমতুল মাপকাঠি মেনেই এবার থেকে ট্রেনের জেনারেল ক্লাসের শৌচালয় সাফাই করা হবে। নির্ধারিত মাপকাঠি মেনে শৌচালয় সাফাই হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে ‘এআই ইমেজ’। সেই রিপোর্ট যাবে রেলের কন্ট্রোল রুমে। যদি নির্ধারিত মাপকাঠি মেনে শৌচালয় সাফাই না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী রেলের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দিষ্ট স্টেশনের ব্যবধানে সংরক্ষিত শ্রেণি থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নেমে জেনারেল কোচের শৌচালয় পরিষ্কার করবেন। তাঁদের সুপারভাইজরের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে আইটিআই ডিপ্লোমা অথবা সমতুল। রেলমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, চেষ্টা করা হবে, যাতে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার করে জেনারেল কোচের শৌচালয় পরিষ্কার করানো সম্ভব হয়। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে রেলের খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তাহলে কি ঘুরপথে সেই বাড়তি অর্থ আদায় করা হবে ট্রেনের জেনারেল ক্লাসের যাত্রীদের কাছ থেকে? সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে রেলমন্ত্রকের দাবি, সংযোজিত পরিষেবা গ্রহণে রেল যাত্রীদের কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না।
একইসঙ্গে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রেনের কামরায় ‘লিনেন’-এর দায়িত্ব থাকবে একটিই বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার হাতে। তিনি বলেন, এতদিন আলাদা আলাদা সংস্থা এসবের দায়িত্ব সামলাতো। কোনো সংস্থা হয়তো ‘লিনেন’ ধোয়ার কাজে যুক্ত। কেউ আবার তা ট্রেনের কোচে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে জড়িয়ে। কোনো সংস্থা আবার ‘লিনেন’কে ‘কভারবন্দি’ করছে। এতে সমস্যা আরও বৃদ্ধি পায়। এবার ‘লিনেন’ সংক্রান্ত সামগ্রিক কাজের বরাত একটিই ঠিকাদার সংস্থাকে দেওয়া হবে। তবে এমন সব গালভরা ঘোষণা কি শুধুই খাতায়-কলমে থাকবে নাকি দিনের আলো দেখবে, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রেল জানিয়েছে, ৫২ সপ্তাহে ৫২টি সংস্কারমূলক কর্মসূচির যে পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই মন্ত্রক গ্রহণ করেছে, এহেন ঘোষণা তারই অন্যতম। আপাতত দেশের ৮০টি মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভোটমুখী রাজ্য অসমে ব্রহ্মপুত্র নদের নীচে আন্ডার-ওয়াটার টানেল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের ১২টি জেলায় একাধিক রেল প্রকল্পের অনুমোদনও দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটি।