নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: দলীয় বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিজেপির স্থানীয় মন্ডলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। বারাকপুরের বিধায়ককে মানহানির আইনি চিঠিও পাঠিয়েছেন বিজেপির-২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় যাদব। প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে, বিধায়কের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা রুজু করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যদিও বিধায়কের দাবি, এসবের পিছনে চিত্রনাট্য অন্যজনের। তিনি সামনে এসে বলুক, তারপর উত্তর দেব। দল সবটা জানে।
সম্প্রতি বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের দুর্গাপুজোর মঞ্চে মন্ত্রী অর্জুন সিং সহ স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সেদিনের মঞ্চে উত্তম দাসের সাথে বিজেপি নেতাদের ছবি দেখিয়ে কৌস্তভ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে বিজেপিতে নেওয়া হলে, দলের রাজ্য দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করবেন। ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসে বিজেপির আভ্যন্তরীণ কোন্দল। তার এক দিনের মাথায় বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মিষ্টির হাঁড়ি নিয়ে সটান উত্তম দাসের বাড়িতে হাজির হন এবং তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের সাথে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এতে বিজেপির নিজেদের কোন্দল আরও চরমে ওঠে।
সঞ্জয় যাদবের অভিযোগ, উত্তম দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জেরে তাঁকে ‘সমাজবিরোধী’ ও ‘ক্রিমিনাল’ তকমা দিয়েছেন কৌস্তভ। তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিধায়ক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সভাপতি বিশাল জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন বিজেপিরই একটা অংশ। সঞ্জয়বাবুর দাবি, ‘দলে এসেই বারাকপুরের পরিবেশ নষ্ট করছেন বিধায়ক। স্থানীয় হাসপাতাল ও নামী রেস্তরাঁ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজি করা হচ্ছে। বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের অভিযুক্তদের সঙ্গে বিধায়কের যোগাযোগের অভিযোগ তুলে প্রাণহানির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন সঞ্জয়বাবু। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য নেতৃত্বকে ইতিমধ্যে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজেপির বারাকপুর-২ মণ্ডলের সভানেত্রী অনামিকা নাগ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘কংগ্রেস থেকে এসে বিধায়ক পুরোনো কর্মীদের কোণঠাসা করছেন।’ অন্যদিকে প্রবীণ বিজেপি নেতা অহীন্দ্রনাথ বসুর অভিযোগ, ‘শুরু থেকেই দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংগঠনকে দুর্বল করছেন বিধায়ক।’ যদিও কৌস্তভ বলেছেন, ‘এরা কেউ আমার পর্যায়ের নয়। যিনি আমাকে নোটিস পাঠিয়েছেন, বলছেন, তিনি আগে আমার সামনে দেখে দেখে দু’লাইন পড়ে দেখান।’ সবমিলিয়ে বারাকপুরে দলের ক্রমবর্ধমান গৃহযুদ্ধে চরম অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি।



