


সংবাদদাতা, বজবজ: একটি পেট্রলবাহী ট্যাঙ্কারে ওয়েল্ডিং করার সময় ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল ১৭ বছরের এক নাবালকের। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক নাবালক। দু’জনেই ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিল। সেই সময় এই ঘটনা ঘটে। বজবজের ময়লা ডিপোর রাস্তার ধারে একটি গ্যারাজের ভিতরে এই ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা নাগাদ। তবে অবাক করার মতো বিষয় হল, বিস্ফোরণে ওই গ্যারাজের চাল উড়ে গেলেও ট্যাঙ্কারটির তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনা হল, তেল ট্যাঙ্কারের ভিতরে পেট্রলের সামান্য অংশ অবশিষ্ট থাকলে গ্যাস তৈরি হয়। ওয়েল্ডিংয়ের সময় সেই গ্যাস কোনোভাবে আগুনের কাছে এসে যাওয়ার এই দুর্ঘটনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশাল ওই গ্যারাজটির মালিক রাজ্যের শাসক দলের এক শাখা সংগঠনের পদাধিকারী। অভিযোগ, প্রথমে এত বড় একটা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে পুরোদমে। তাই নাবালকের মৃত্যুর বিষয়টি কেউ স্বীকার করতেই চাননি। শুধু তাই নয়, উত্তর রায়পুরের শাকপুকুরের ওই কিশোরের বাড়ি থেকে যাতে কেউ থানায় যেতে না পারে, তার জন্য চেষ্টা করা হয়! যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে পৃথকভাবে গাফিলতিতে মৃত্যুর মামলা হবে ট্যাঙ্কারের মালিক ও গ্যারাজের মালিকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফাঁকফোকর এবং নাবালকদের এই ধরনের বিপজ্জনক কাজে যুক্ত করার অভিযোগে মামলা হবে গ্যারাজের মালিকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে আইন অনুযায়ী মৃত নাবালকের ‘ইন কোয়েস্ট’ সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ঝালাইয়ের কাজ করানোর আগে ভিতরের দিক ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিতে হয়। যাতে ভিতরে সামান্য তেলও না থাকে। কয়েক ফোঁটা তেল থাকলেই গ্যাস তৈরি হবে। এজন্য কাজ শুরুর আগে পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া উচিত গাড়ির মালিক ও গ্যারাজের মালিকের। অভিযোগ, এদিন এসব সাবধানতা ছাড়াই কাজ চলছিল। নীচে এক কিশোর গাড়িতে রঙের কাজ করছিল। ট্যাঙ্কারের উপরে উঠে ঝালাইয়ের কাজ করছিল আরেকজন। যখন সে ট্যাঙ্কারের ঢাকনা খুলে ঝালাই করতে যায়, তখনই ভিতরের গ্যাস বেরিয়ে আসায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত বলেন, ‘আরও সতর্ক হয়ে কাজ করা উচিত ছিল গাড়ির মালিক এবং গ্যারাজ কর্তৃপক্ষের। তাহলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত।’