Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দত্তপুকুরের নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির গোডাউনে রাখা বাজিতে বিস্ফোরণ

ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকা বিকট বিস্ফোরণ। একের পর এক বাজি ফাটার শব্দে ঘুম ভাঙে দত্তপুকুরের নীলগঞ্জের বাসিন্দাদের

দত্তপুকুরের নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির গোডাউনে রাখা বাজিতে বিস্ফোরণ
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকা বিকট বিস্ফোরণ। একের পর এক বাজি ফাটার শব্দে ঘুম ভাঙে দত্তপুকুরের নীলগঞ্জের বাসিন্দাদের। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আতঙ্কে ছড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে। মঙ্গলবার সকালে নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পাশে ভাড়া নেওয়া গোডাউনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে নারায়ণপুরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ বাজি ও বাজির মশলা ওই গোডাউনে রাখা ছিল। 

Advertisement

স্থানীয়দের দাবি, টিনের ড্রামে রাখা বাজির মশলায় প্রথমে আগুন লাগে। এরপর একের পর এক বাজি ফাটতে শুরু করে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা ফাঁড়ি চত্বরে। আগুনে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রাখা কয়েকটি বাইক ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশপাশের কয়েকটি দোকানও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে গোডাউনে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার উপরের তলায় থাকা একটি পরিবার আতঙ্কে নীচে নেমে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। ফাঁড়ির চারপাশে ঘন জনবসতি থাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ে। খবর পেয়ে বারাসত পুলিশ জেলার কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। দমকলের দুটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। 
অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া বাজি ও বাজির মশলা প্রোটোকল মেনে নিষ্ক্রিয় না করে ফাঁড়ির ভিতরে মজুত রাখা হয়েছিল। সেই গাফিলতির ফলে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি। প্রসঙ্গত, তিন বছর আগের দত্তপুকুরের মোচোপোলের ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণের স্মৃতি ফের উসকে দিয়েছে। ২০২৩ সালে ওই বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর কিছুদিন বেআইনি বাজি কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চললেও, বর্তমানে নজরদারি কমে যাওয়ায় নারায়ণপুর, মোচোপোল-সহ আশপাশের এলাকায় ফের বেআইনি বাজির কারবার মাথাচাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ দে বলেন, আগুনে তাঁর দোকানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নগদ টাকা পুড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মামণি বাল্মীকি বলেন, ভোরে টিনের ড্রামে রাখা বাজির মশলায় আগুন লাগে। পরে মজুত বাজিতে আগুন ধরে বিস্ফোরণ হয়। আতঙ্কে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। বারাসত পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, উদ্ধার হওয়া বাজিগুলি ফাঁড়ি চত্বরে রাখা ছিল। কোনোভাবে সেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা। কেউ হতাহত হননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ