নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্লাস্টিকেই বিপদের আশঙ্কা! অভিযোগ, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, জলের বোতলে অবরুদ্ধ হচ্ছে নালা, ঝোরা ও নদীর মুখ। এরজেরেই ধস ও হড়পা বান নামতে পারে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর দার্জিলিং ও কালিম্পং নিয়ে এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো এবং জরিমানা আদায়ে জোর দেওয়ার দাবি তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে দুই জেলার প্রশাসনও। তাদের দাবি, নিয়মিত তারা ঝোরাগুলি সংস্কার করছে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা নিয়ে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি সহ সর্বত্র চলছে জোর চর্চা। সকলেই দুই শৈল জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের নালা, ঝোরা ও নদীগুলির অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই পাহাড়েই ঝোরার সংখ্যা বাড়ছে। তা হলেও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ঝোরার সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। সেগুলি নিয়মিত পরিচর্যা করা এবং গতিপথে নজর রাখার দাবি উঠেছে।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, নেপালের মতো বিপর্যয় দার্জিলিং কিংবা কালিম্পংয়ে হওয়ার কথা নয়। প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমে নেপালের মতো বিপর্যয় হতে পারে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে প্রচুর নালা, ঝোরা ও নদী রয়েছে। তবে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, জলের বোতল ফেলে সেগুলির মুখ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। এখানেই বিপদের শঙ্কা। ভারী বৃষ্টি হলে ঝোরার অবরুদ্ধ মুখ উড়ে গিয়ে বিপুল জলোচ্ছ্বাস পাহাড়ের গা বেড়ে ধেয়ে নামবে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক রঞ্জন রায়ের অভিমতও একই। দু’জনেরই বক্তব্য, পাহাড়ের যত্রতত্র প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ও খালি জলের বোতল না ফেলার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পর্যটকদের সচেতন করতে হবে। অভ্যাসের পরিবর্তনের জন্য ফাইন আদায় করতে হবে। সেই সঙ্গে বছরভর ঝোরাগুলি পরিচর্যা করতে হবে।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্কর বলেন, শহরের যত্রতত্র প্লাস্টিক সহ আবর্জনা ফেললে ফাইন আদায় করা হচ্ছে। তাছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত, জিটিএ, বন এবং জল সম্পদ ও অনুসন্ধান দপ্তর ঝোরাগুলির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু ঝোরা সংস্কার করা হয়েছে। কালিম্পংয়ের জেলাশাসক কুহুক ভূষণের বক্তব্য একই।