Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তাসের ঘরের মতো ভাঙল বাড়ি, বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা! হাওড়ার বেলগাছিয়ায় পরিদর্শনে যাদবপুরের বিশেষজ্ঞরা

তাসের ঘরের মতো ভাঙল বাড়ি, বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা! হাওড়ার বেলগাছিয়ায় পরিদর্শনে যাদবপুরের বিশেষজ্ঞরা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভূমিধস। রবিবার ভাগাড়ে প্রায় ১০ তলা সমান উঁচু আবর্জনার পাহাড়ে বড়সড় ফাটল ধরে। এলাকা সংলগ্ন বস্তির কয়েকটি বাড়ি কার্যত তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। প্রশাসন বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ওখানকার বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে যেতে রাজি নন। এদিকে জল এবং বিদ্যুৎহীন হয়ে গিয়েছে এলাকা। নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ। এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার ও ভূ-বিজ্ঞানীদের একটি দল। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, আবর্জনার পাহাড় দ্রুত কেটে ফেলে মাটির উপরতলের চাপ কমাতে হবে। সে কাজ শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি এক সপ্তাহের মধ্যে ওই এলাকার সয়েল টেস্টের রিপোর্ট আসার কথা। তারপর বিপর্যয় মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ হবে বলে জানানো হয়েছে।

Advertisement

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক সাধনকুমার ঘোষ এদিন সকালে ঘটনাস্থলে যান। রাজ্যের তরফে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার ও ভূ-বিজ্ঞানীদের চার সদস্যের একটি দলকে পাঠানো হয়েছিল। দলটি ভাগাড়ের মাটি সংগ্রহ করে। এরপর হাওড়ার জেলাশাসক, পুলিস কমিশনার, হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ও কমিশনার এবং শিবপুর ও উত্তর হাওড়ার বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, মাটির ওপর পাহাড়ের মতো আবর্জনার একাধিক স্তূপ ও ভূগর্ভের ফাটলে বাড়তে থাকা মিথেন গ্যাসের আস্তরণের দ্বিমুখী চাপে ভূমিধস ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। ফলে বিপর্যয় আরও বড় চেহারা নিতে পারে। ফলে বস্তি ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাগাড়ের বিভিন্ন অংশের মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষার কাজ শুরু হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে। ভাগাড়ের দু’নম্বর জোনে থাকা ৪৫ মিটার উঁচু বিশাল জঞ্জালের পাহাড় বায়ো মাইনিং পদ্ধতিতে কেটে ছোট করা হবে। পাশাপাশি এক ও তিন নম্বর জোনে মাইনিং চলবে। কাজে গতি আনতে কেএমডিএ ব্যবহার করবে ব্যালেস্টিক সেপারেটর মেশিন। ভূগর্ভের মিথেন দ্রুত বের করতে ভাগাড়ের কিছু পয়েন্টে তৈরি করা হবে গহ্বর। ধস পরিস্থিতি সামলাতে কলকাতার ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন বিশেষজ্ঞরা। জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া ও পুলিস কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী বলেন, ‘বস্তির বাসিন্দাদের স্থানীয় দু’টি স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।’ 
এদিন সকালেই ১০০ মিটারেরও বেশি অংশজুড়ে বিরাট আকারের ফাটল দেখা দেয়। এগারোটা নাগাদ ঝিল রোডের বস্তির পাশাপাশি থাকা দু’টি বাড়ি ভেঙে পড়ে। তবে কেউ আহত হয়নি। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, এখানকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে কিছুতেই যেতে চাইছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত দুই বাড়ির বাসিন্দা বিশ্বনাথ সাউ ও লক্ষ্মী পাসওয়ান বলেন, ‘দুটো পরিবারে ১৫ জন থাকি। দশ মিনিটের মধ্যে ভূমিকম্পের মতো হয়ে সব তছনছ হয়ে গেল। বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে জানি না আর ফিরতে পারব কি না।’ এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন বাসিন্দাদের বারবার সরে যেতে বলছে। পাশাপাশি জল ও ত্রাণও পাঠাচ্ছে নিয়মিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ