Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুরারইয়ের সীমানা সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভারের

আসন্ন নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে বীরভূমে। জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় ঘুরছেন অবজার্ভাররা।

মুরারইয়ের সীমানা সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভারের
  • ১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আসন্ন নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে বীরভূমে। জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় ঘুরছেন অবজার্ভাররা। মঙ্গলবার বিকেলে ঝাড়খণ্ড সীমানা ঘেঁষা মুরারই থানা এলাকার দুলান্দি ঘুরে দেখলেন এক্সপেনডিচার অবজার্ভার শৈলেশ কুমার সিং। সঙ্গে ছিলেন মুরারই ১ ব্লকের বিডিও এইচএম রিয়াজুল হক। দিন সাতেক আগে দুলান্দি, পাথরঘাটা সহ একাধিক সীমানা পরির্দশন করেন জেনারেল অবজার্ভার শওকত আহমেদ প্যারে। 

Advertisement

রাজ্যের অন্যান্য জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা এলাকা রয়েছে বীরভূমেই। রাজনগর থেকে মহম্মদবাজার, দুবরাজপুর, রামপুরহাট, নলহাটি, মুরারই এই সমস্ত এলাকাগুলি থেকে এক থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যেই ঝাড়খণ্ড। আবার রামপুরহাট, নলহাটি, মুরারই এলাকার মধ্যে কিছু কিছু এলাকার পঞ্চাশ মিটার দূরত্বের মধ্যেই ঝাড়খণ্ড। তার মধ্যে মুরারই থানার দুলান্দি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে নলহাটি থানার ভবানন্দপুর, রামপুরহাট থানার তুম্বনি, আড়ান্দা, নারায়ণপুরের মতো এলাকা। তাই ঝাড়খণ্ডের মানুষজনের যেমন বীরভূমের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে নিয়মিত। বীরভূমের মানুষজনও তাঁদের বাজারহাট ঝাড়খণ্ডে গিয়ে করে আসেন। 
একটা সময়ে ঝাড়খণ্ড সীমানায় একাধিক নাশকতার ঘটনা ঘটিয়েছে মাওবাদীরা। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্রমশ মাওবাদী প্রভাব কমলেও প্রায়ই সীমানাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন পর্বেও সীমানা ঘেঁষা মহম্মদবাজার ও নলহাটিতে অশান্তির জন্য তৃণমূলের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও আঙুল তুলেছিল ঝাড়খণ্ডের দিকে। এমনকী, ম্যাসাঞ্জোরের জলবিবাদ নিয়েও সীমানায় তৃণমূল বিজেপির দ্বন্দ্বে উত্তেজনা ছড়ায়। এছাড়া প্রায়ই ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি আটক হচ্ছে সীমানাবর্তী থানাগুলি। এসবের নিরিখে আন্তঃরাজ্য সীমানায় ভোট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাই প্রথম থেকেই সজাগ কমিশন।  
নির্বাচনের সময় যাতে পড়শি রাজ্য থেকে ঢুকে কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য সীমানা এলাকায় নাকা চেকিং, সিসি ক্যামেরা, আন্তর্রা‌জ্য চলাচলকারী যানবাহন সম্পর্কে রেজিস্ট্রার রাখা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত অবজার্ভাররা। 
দিন সাতেক আগে দুলান্দি, পাথরঘাটা সীমানায় নাকা চেকিং ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন জেনারেল অবজার্ভার। ঝাড়খণ্ড থেকে আসা যানবাহনগুলি চেকিং করা হচ্ছে কি না। গাড়ির নম্বর, চালকের ফোন নম্বর সহ রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হচ্ছে কি না, সিসি ক্যামেরাগুলি ঠিকঠাক আছে কি না বা মনিটরিং ব্যবস্থা কেমন সেসবই দেখেন তাঁরা। সেই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় একাধিক বুথও পরিদর্শন করেন জেনারেল অবজারভার। 
এদিন দুলান্দি নাকা পয়েন্টে আসেন এক্সপেনডিচার অবজার্ভার। ঠিকমতো নজরদারি চলছে কি না, কোনো টাকা, অস্ত্র বা অন্য কিছু সিজ হয়েছে কি না, সেসব দেখার পাশপাশি অফিসের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, এক্সপেনডিচার অবজার্ভারেরও মূল ফোকাস নাক পয়েন্টগুলি। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলি র‌্যালি বা সভায় কী পরিমাণ টাকা খরচ করছে সেগুলি মিলিয়ে দেখছেন তিনি। 
নাকা পয়েন্টে পুলিস ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি ছাড়াও সিসি ক্যামেরার নজরদারির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।  বিডিও বলেন, এদিন এক্সপেনডিচার অবজার্ভার আমাদের ব্যবস্থাপনায় খুশি। তাঁদের নির্দেশ মতো সীমানা লাগোয়া এলাকাগুলিতে জোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো কিছু সিজ হয়নি। 

সম্পর্কিত সংবাদ