ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: থিমের লড়াইয়ের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে সাবেকিয়ানা। মহানগর কলকাতার পাশাপাশি জেলার পুজোতেও এখন আধুনিকতার ছোঁয়া। পরিবর্তনের এই আবহেও পুজোর সেই নস্টালজিয়া ধরে রেখেছে পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি। বিসর্জনের পর সেই কাঠামোয় নতুন প্রতিমা গড়ে তোলা আর একচালার ঠাকুরে ডাকের সাজে জড়িয়ে বাঙালির অতীত-ঐতিহ্য। গত ১৪৩ বছর ধরে এই রীতি মেনে চলেছে পুরনো দুর্গাবাটি। স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিত মায়ের রূপে নেই আধুনিকতা। রয়েছে শুধুই অতীতের আবেগ। পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা বাবলু সেন জানালেন, ছোটবেলায় দেখা প্রতিমার রূপে আজও একই রয়েছে। রাঁচিতে অন্তত ৫০-৬০টি পুজো হয়। তবে দুর্গাবাটির আকর্ষণ অনন্য। বারোয়ারি হোক বা বনেদি, যেখানেই পুজো হোক না কেন, দুর্গাবাটিতে ডালা দেওয়া এই শহরের প্রত্যেক ঘরেরই নিয়ম হয়ে গিয়েছে। রাঁচির প্রতিটি বাড়ি থেকে সবাই সাধ্যমতো অর্থসাহায্য করেন। তা দিয়েই হয় রাঁচির সবচেয়ে বড় পুজো।
রাঁচির পাশাপাশি জামশেদপুরের গোলমুড়ি, সোনারি, আমবাগান সাকচি, টেলকো কলোনি সহ বেশকিছু জায়গায় জাঁকজমকের সঙ্গে দুর্গাপুজো হয়। গোলমুড়ির ইভনিং ক্লাবের পুজোর এবার ৯৩ বছর। এবারে তাদের থিম গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। ক্লাব প্রেসিডেন্ট ড. স্বরজ্যোতি দে জানালেন, মণ্ডপসজ্জায় চৈতন্যদেবের জীবনী, ভক্তি আন্দোলনে মহাপ্রভুর ভূমিকা প্রতিফলিত হবে। যদিও মণ্ডপ হচ্ছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে। গত বছর থেকেই ভক্তি আন্দোলন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সে বছর থিম ছিল কবি তুলসীদাস। এবছর থাকছে চৈতন্য মহাপ্রভুর কাহিনি। প্রতিমাতেও থাকবে সেই ছোঁয়া। পঞ্চমীর দিন ভক্তি আন্দোলনে মহাপ্রভুর ভূমিকা নিয়ে দেড় ঘণ্টার একটি নৃত্যনাট্য থাকছে। তার মধ্যে দিয়েই সূচনা হবে পুজোর।
দক্ষিণের হায়দরাবাদেও প্রবাসী বাঙালিদের দুর্গাপুজো রীতিমতো জনপ্রিয়। বাঙালিদের একাধিক সোসাইটির মধ্যে রয়েছে বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। পুজো কমিটির সহ সভাপতি সঞ্জয় পান জানালেন, এবছর তাঁদের পুজোর ৫২তম বর্ষ। ছেলেবেলা থেকে কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য—আমাদের জীবনের এই যাত্রাপথকেই মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হবে। পাশাপাশি থাকছে উত্তরাখণ্ড, কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হিমাচলের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী। পুজোর দিনগুলিতে কলকাতার নামি ব্যান্ড ও সঙ্গীত শিল্পীদের সুরের জাদুতে মজবেন হায়দরাবাদের বাঙালিরা। অন্যদিকে, সেকেন্দ্রাবাদের আরটিসি কলোনির জয়লক্ষ্মী গার্ডেনে বেদাঙ্গ সম্মিলনীর পুজো এবার ১১ বছরে পা দিল। পুজো কমিটির অন্যতম আয়োজক অরিজিৎ চৌধুরী বলেন, পুজোর চারদিনই থাকছে কলকাতার নামি ব্যান্ড ও শিল্পীদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান। সপ্তমীতে ক্লাবেরই সদস্যরা পরিবেশন করবেন গীতিআলেখ্য ‘রেডিও বেদাঙ্গপুর’।