রাজকোট: ২১ হাজার ৩১০ কাপ চা। ১৩ হাজারেরও বেশি প্যাকেট খাবার। ৪ হাজার বোতল শরবত। গুজরাতের রাজকোটে উচ্ছেদ অভিযানে শুধুমাত্র খাওয়াদাওয়ায় খরচের বহরে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে। জঙ্গলেশ্বর এলাকায় গত ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ অভিযান চালায় পুরসভা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অভিযানে সবমিলিয়ে মোট ৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। গরীব মানুষের শেষ সম্বলটুকু বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে বিপুল ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু আধিকারিকদের চা, বিস্কুট ও স্ন্যাক্স বাবদ মোট ২৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিল পেশ করা হয়েছিল। সেই বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই বিপুল খরচের লিখিত ব্যাখা চেয়ে পাঠিয়েছে স্ট্যান্ডিং কমিটি। এই ২৭ লক্ষ টাকার বিলে অবশ্য মিনারেল ওয়াটার ও মণ্ডপের খরচ যোগ করা হয়নি। অভিযানে নিযুক্ত আধিকারিক, পুরকর্মী ও পুলিশের জন্য চা-জলখাবার সহ অন্যান্য খাতে মোট খরচের পরিমাণ ৪৬ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা বলে অভিযোগ।
সূত্র উল্লখে করে জানানো হয়েছে, এই উচ্ছেদ অভিযানে মোট ২১ হাজার ৩১০ কাপ চা খেয়েছেন আধিকারিকরা। ২ দিনে সকাল ও দুপুরের মোট ৩৬০ প্লেট খাবারের বিলের হিসাব পেশ করা হয়েছে। এজন্য মোট খরচ ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি, ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট ১৩ হাজার ৩৯০টি স্পেশাল লাঞ্চ প্যাকেট ও ৪ হাজার বোতল লেবু-আদার শরবতের বিলও পেশ করা হয়েছে। যার খরচ ২০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে বিল ২৭ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এছাড়া মিনারেল ওয়াটার বাবদ ব্যয় ১২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। তবে এখানেই শেষ নয়। গুজরাতের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, এই অভিযানের ভিডিয়ো তুলে রাখার জন্য খরচ হয়েছে ২৪ লক্ষ টাকা। বুলডোজার, জেসিবি ও ট্রাক্টরের খরচ প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।
কেন এতো খরচ? হেলফ অফিসার জয়েশ ভাকানি দাবি করেছেন, পুরসভার নির্দেশিকা মেনেই প্যাকেটজাত খাবার দেওয়া হয়েছে উচ্ছেদ অভিযানে যোগ দেওয়া আধিকারিক ও কর্মীদের। ২৫ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জলখাবারের জন্যও ওই টাকার একাংশ খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস কাউন্সিলর দীপ্তিবেন সোলাঙ্কির তোপ, ‘উচ্ছেদ অভিযানের সময় মানুষ যখন সর্বস্ব হারাচ্ছে, তখন পুর আধিকারিকরা বিলাসবহুল জলখাবার খাচ্ছিলেন।’ এই টাকা দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের কাছ থেকে আদায় করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।