Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যরাতে ছদ্মবেশে হানা আবগারি কর্তাদের, গ্রেপ্তার কুখ্যাত চোলাই কারবারি

জগৎবল্লভপুরে গভীর রাতে আবগারি কর্তাদের অভিযানে গ্রেপ্তার হল কুখ্যাত চোলাই কারবারি কালীপদ পাঁজা। উদ্ধার ১০০ লিটার চোলাই। বিস্তারিত পড়ুন।

মধ্যরাতে ছদ্মবেশে হানা আবগারি কর্তাদের,  গ্রেপ্তার কুখ্যাত চোলাই কারবারি
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাত তখন প্রায় পৌনে ১টা। নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ভিজছে জগৎবল্লভপুরের ফিঙ্গেগাছি শ্মশান সংলগ্ন এলাকা। চারদিকে অন্ধকার, রাস্তাঘাট জনশূন্য। সেই নির্জনতাকে হাতিয়ার করে শুরু হয় গোপন অভিযান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বহুদিনের অধরা গল্প। আবগারি দপ্তরের জালে ধরা পড়ে জগৎবল্লভপুরের কুখ্যাত চোলাই কারবারি কালীপদ পাঁজা।

Advertisement

সম্প্রতি জগৎবল্লভপুরে অবৈধ চোলাইয়ের কারবার নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল আবগারি দপ্তর। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার অভিযান চালিয়ে চোলাই উদ্ধার হলেও মূল কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছিল। বিশেষ করে আবগারি অফিসের অদূরে দীর্ঘদিন ধরে চোলাই ব্যবসা চললেও কেন কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল এলাকায়। এই পরিস্থিতি নড়েচড়ে বসে দপ্তর। আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই কালীপদ পাঁজার গতিবিধির উপর গোপনে নজর রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খবর আসে, সে বাড়িতেই রয়েছে। এরপর সাজানো হয় পরিকল্পনা। একটি ছোটো লরিতে করে এলাকায় পৌঁছান পাঁচজন আধিকারিক। গ্রামে ঢোকার আগেই বদলে ফেলা হয় পরিচয়। সরকারি পোশাকের পরিবর্তে গায়ে ওঠে সাধারণ জামা ও লুঙ্গি। লরি থেকে নামানো হয় চারটি সাইকেল। তারপর চাষির বেশে গ্রামের সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে যান তাঁরা। নিজেদের মধ্যে জমি, বৃষ্টি আর চাষাবাদ নিয়ে কথাবার্তা বলতে বলতেই পৌঁছে যান লক্ষ্যস্থলে।
শ্মশানের কাছে কালীপদের বাড়ির সামনে সাইকেল রেখে দরজায় কড়া নাড়েন এক আধিকারিক। পরিচিত ক্রেতার মতোই ডাক শোনা যায়, ‘কালীদা, তিনটে বোতল লাগবে।’ পরিচিত খদ্দের মনে করে বিনা সন্দেহে হাতে চোলাইয়ের বোতল নিয়ে দরজা খোলে কালীপদ। ফাঁদে পা দিতেই তাকে ঘিরে ফেলেন পাঁচ আধিকারিক। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। আন্দুল আবগারি বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ইন্দ্রজিৎ মিত্রের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে বড়গাছিয়া এলাকা থেকে অরূপ প্রামাণিক নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১০০ লিটার চোলাই, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকা। দু’জনের বিরুদ্ধে আবগারি আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আবগারি দপ্তরের একাংশের দাবি, তৃণমূল আমলে রাজনৈতিক মদতেই বহু এলাকায় চোলাই কারবার রমরমিয়ে চলত। ঠেকে অভিযান চালিয়ে কিংবা চোলাই ভরতি গাড়ি পাকড়াও করলেও পার পেয়ে যেত মূল চক্রীরা। সরকার পরিবর্তনের পর সেই চক্র ভাঙতে ধারাবাহিক অভিযানে নেমেছে দপ্তর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ