সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: তাঁদের কষ্ট করে পাখি ধরতে হয়নি। পাখি নিজেই এসে ধরা দিয়েছে খাঁচায়। সোমবার সকালে জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া দিয়ে চোলাই পাচারের আগাম খবর পেয়ে দলবল নিয়ে সাদা পোশাকে হাজির হয়েছিলেন আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা। সেই সময় সাধারণ মানুষ ভেবে লাল রঙের চার চাকার একটি গাড়ি হঠাৎই তাঁদের সামনে এসে হাজির হয়। গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি মুখ বাড়িয়ে ঠিকানা জানতে চাইলে সন্দেহ হয় তাঁদের। সোর্সের দেওয়া খবরের সঙ্গে মিলে যায় গাড়ির নম্বর। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি তল্লাশি চালালে সাড়ে উদ্ধার হয় চার লক্ষ টাকার চোলাই। সেইসঙ্গে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের নাম শেখ সাদ্দাম হোসেন। বাড়ি চেঙ্গাইলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হদিশ মেলে চোলাইয়ের একটি গুদামের। সেখান থেকে সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকার চোলাই ও গুড় বাজেয়াপ্ত করা হয়।
সূত্রের খবর, গত কয়েকমাস ধরে উলুবেড়িয়া মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় পুলিস ও আবগারি দপ্তরের সাঁড়াশি অভিযানে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে চোলাই ব্যবসা। গ্রেপ্তারি এড়াতে চোলাই কারবারিরা গা ঢাকা দিয়েছে। আবগারি দপ্তর সূত্রে খবর, উলুবেড়িয়ার সেই শূন্যস্থান পূরণে চোলাই কারবারের নতুন ঠিকানা হয়েছে আমতা।
আবগারি দপ্তরের আধিকারকিদের কাছে রবিবার গোপন সূত্রে খবর আসে, এদিন সকালে একটি চারচাকা গাড়ি করে চোলাই পাচার হবে আমতায়।
সেইমতো ভোররাতেই আবগারি দপ্তরের আন্দুল রেঞ্জের আধিকারিক জিৎ সরকার বড়গাছিয়ার রাস্তার পাশে সাদা পোশাকে অপেক্ষা করতে থাকেন। ভোর ৬টা নাগাদ একটি লাল রঙের চারচাকা গাড়ি ওই আধিকারিকের সামনে থামে এবং এক ব্যক্তি আমতার একটি ঠিকানার খোঁজ করে। ধৃত শেখ সাদ্দাম হোসেনই খোঁজ দেয় ওই গুদামের। সেখানে হানা দিয়ে চোলাইয়ের পাশাপাশি ৯৬০০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। এর বাজারদর সাড়ে নয় লক্ষ টাকা। ওই গুড় চোলাই তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পাশাপাশি চোলাই সরবরাহের জন্য ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা তিনচাকার দু’টি গাড়ি ও পাঁচটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে আটক করেন তাঁরা।