একমাত্র পরীক্ষার্থীর জন্য দিনভর অপেক্ষা পরীক্ষক-পুলিশকর্মীদের, উচ্চ মাধ্যমিক দিতে এলই না গাইঘাটার পড়ুয়া
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: একটি মাত্র ছাত্র আসবে উচ্চ মাধ্যমিক দিতে। তার জন্য স্কুলে উপস্থিত এক পরীক্ষক, ভেন্যু সুপারভাইজার হিসেবে স্কুলের প্রধানশিক্ষক এবং স্কুলের অশিক্ষক কর্মী। পরীক্ষাকেন্দ্র পাহারা দিতে সকালেই হাজির ৩ পুলিশকর্মী। কিন্তু ছেলেটি এলই না! 

Advertisement

এমন নয় যে ছাত্রটির আচমকা শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছে। বা বড়ো কোনও সমস্যা হয়েছে। পরীক্ষার্থীটি আজ প্রথম অনুপস্থিত এমনও নয়। সে এর আগেও কোনওদিন আসেনি। একটি দিনও পরীক্ষায় বসেনি। তবুও নিয়মরক্ষার খাতিরে পরীক্ষার্থীর অপেক্ষায় পরীক্ষাগ্রহণ কেন্দ্রে বুধবার সাজো সাজো রব সকাল থেকেই। ঘটনাটি ঘটেছে গাইঘাটা ঝিকরা হাইস্কুলে। সেখানেই ছাত্রটির সিট পড়েছিল।  এই পরীক্ষার্থী গাইঘাটা চাঁদপাড়া বাণী বিদ্যাবীথির পড়ুয়া। আগের বছর দিয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক। অকৃতকার্য হয়েছিল। এবছর সবকটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হত তাকে। কিন্তু একদিনও আসেনি। কোনও বিষয়েরই পরীক্ষা দেয়নি। 
বাণী স্কুল থেকে এবছর ২৬১ জন উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছে। এই ছাত্রটিকে নিয়ে সংখ্যাটি ২৬২। ঝিকরা স্কুলে যে অন্যান্য পরীক্ষার্থীর সিট পড়েছিল তারা নিয়ম মেনেই দিয়েছে পরীক্ষা। কিন্তু বুধবার শুধুমাত্র শারীরশিক্ষার অপশনাল ইলেকটিভ পরীক্ষা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সব পরীক্ষা দিতে হয়। যে বিষয়ে সবচেয়ে কম নম্বর পায় সে বিষয়ে দিতে হয় অপশানল ইলেকটিভ। শারীরশিক্ষার সেই অপশনাল ইলেকটিভ একমাত্র ওই অনুপস্থিত ছাত্রটিরই দেওয়ার কথা ছিল এদিন। তাই সে না আসায় পরীক্ষাগ্রহণের সব আয়োজন বৃথা যায়। পরীক্ষাকেন্দ্রে বসে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় শিক্ষক-পরীক্ষকদের।
 বাণী বিদ্যাবিথি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতমকুমার সাহা বলেছেন, ‘ওই ছাত্র কোনো পরীক্ষা না দিলেও কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী আজ পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি রাখতে হয়েছিল।’
অন্যদিকে চাঁদপাড়া ঢাকুরিয়া গার্লস স্কুলের দুই ছাত্রী চৌগাছা মডেল অ্যাকাডেমিতে পরীক্ষা দিয়েছে। শুধুমাত্র দু’জনের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি রাখার ব্যবস্থা হয়েছিল। এদিন তাঁরাও দিয়েছে শারীরশিক্ষা পরীক্ষা।