নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় বন্ধুদের দিয়ে মেমারির সাতগেছিয়ার নাবালিকাকে গণধর্ষণ করিয়েছে প্রাক্তন স্বামী। তাকে খুনের ছকও কষা হয়েছিল। গণধর্ষণের পর মুখে ইট বা পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়। পাশাপাশি গলায় ওড়না জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা হয়েছিল। মারা গিয়েছে ভেবেই ধর্ষণকারীরা তাকে বাড়ির পাশে ফেলে দিয়ে যায়। ১৭ বছরের ওই নাবালিকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে। পুলিশ ওই নাবালিকার প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা ওই নাবালিকার পাশের গ্রামের বাসিন্দা। জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাশের গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবকের সঙ্গে নাবালিকার বিয়ে হয়েছিল। তারা নিজেরাই প্রেম করে বিয়ে করেছিল। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যায়। সেই থেকেই তার স্বামী ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে। এর আগেও তাকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে ওই নাবালিকা শৌচালয়ে গিয়েছিল। তার প্রাক্তন স্বামী ও তার দলবল আগে থেকেই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিল। গভীর রাতে তাকে একা পেয়ে বাড়ির কাছে থেকে মাঠে তুলে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে গণধর্ষণ করা হয়। ধরা পড়ার ভয়ে তারা ওই নাবালিকাকে খুনের পরিকল্পনা করে। ওই নাবালিকার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়। দু’কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। এছাড়া গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া ছিল।
ওই নাবালিকার বাবা বলেন, বাড়ির অমতেই মেয়ে ওই যুবককে বিয়ে করেছিল। তিন মাসের মধ্যে মেয়ে ভুল বুঝতে পারায় বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু ওই যুবক প্রায়ই আমাদের গ্রামে আসত। মেয়েকে কটূক্তি করত। তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে। কিন্তু, এই অবস্থা করবে তা ভাবতে পারেনি। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, নাবালিকার শারীরিক অবস্থা ভাল নেই। সে কয়েকজনের নাম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
ওই গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, মঙ্গলবার রাত ২টো থেকে আড়াইটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছিল। গভীর রাতে বলেই কেউ টের পায়নি। ওই নাবালিকা বাড়ির উঠানে পড়েছিল। গোঙানির আওয়াজ পেয়ে তার মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে প্রথমে পাহাড়হাটি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে। মাথায় এবং কানের পাশে আঘাত সব থেকে বেশি।