সংবাদদাতা, বোলপুর: আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। মাইকিং করে নির্দিষ্ট সময়সীমাও জানানো হয়েছিল। জমি মাপজোকের পর সোমবার সকালে কীর্ণাহার রেলস্টেশন ও রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল কর্তৃপক্ষ। বুলডোজার দিয়ে একের পর এক অবৈধ দখল সরিয়ে ফেলা হয়। যদিও অভিযান ঘিরে কোথাও অশান্তি হয়নি।
গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে রেলের পক্ষ থেকে স্টেশন চত্বর এবং রেলগেট লাগোয়া এলাকায় নোটিস টাঙানো হয়। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৩ জুলাই উচ্ছেদ অভিযান হবে। ১২জুলাইয়ের মধ্যে দখল করা অংশ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। গত শনিবার রেলের কর্মীরা জমির সীমানাও মেপে চিহ্নিত করেন।
জানা গিয়েছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ দোকানদার ও বাসিন্দা নিজেদের মালপত্র সরিয়ে নেন। বাড়ির বাড়তি অংশও অনেকেই ভেঙে ফেলেন। ফলে এদিনের অভিযানে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি রেলকে। ঘটনাস্থলে রেল পুলিশের বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উপস্থিত ছিল কীর্ণাহার থানার পুলিশও।
এদিন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি চায়ের দোকান ভেঙে দিয়েই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেল। এরপর একে একে একাধিক দোকান, অস্থায়ী নির্মাণ এবং কয়েকটি বাড়ির বর্ধিত অংশ সরিয়ে ফেলা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, রেলের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই তাঁরা দোকানের মালপত্র ও বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই আগামী দিনে জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান। ব্যবসায়ী বকুল শেখ বলেন, আপাতত দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সংসার চালাতে এখন আয়ের জন্য অন্য কোনো উপায় খুঁজতে হবে।
এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কাটোয়া-আহমদপুর রেললাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক, রেলের অন্যান্য আধিকারিক এবং রেল পুলিশ। রেলের এক আধিকারিক জানান, সম্পূর্ণ আইন মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। অধিকাংশ জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।