Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

আমার কাছে প্রতিটা দিন ভালোবাসার

ভারতের যেখানেই যাই, সেখানকার বিরিয়ানি ট্রাই করি। রীতিমতো ভালোবাসি। সবথেকে ভালোবাসি কলকাতার বিরিয়ানি

আমার কাছে প্রতিটা দিন ভালোবাসার
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

 বিরিয়ানি আপনার কতটা প্রিয়?
 ভারতের যেখানেই যাই, সেখানকার বিরিয়ানি ট্রাই করি। রীতিমতো ভালোবাসি। সবথেকে ভালোবাসি কলকাতার বিরিয়ানি। আলু ছাড়া বিরিয়ানি একেবারেই পছন্দ করি না। আমার একটাই আবদার, ‘দ্য গ্রেট বিরিয়ানি কুক অফ’ প্রতিযোগিতায় যে বিরিয়ানির পদ সবথেকে ভালো হবে, সেটা যেন টেস্ট করতে পারি (হাসি)।

Advertisement

 আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন অনুষ্ঠান, সেটা মাথায় রেখে গানের তালিকা সাজিয়েছেন?
 সুবিধে হল, আমার বেশ কিছু গানের মধ্যে খাওয়াদাওয়ার বিষয় রয়েছে। সেগুলো তো গাইবই। বিরিয়ানি মানে হইহই। গানও তাই। আমার কাছে আসলে প্রতিটা দিন ভালোবাসার। আলাদা করে ভালোবাসার দিন যখন পালন হচ্ছে, তখন সেটাও সেলিব্রেট করব গানে গানে।
 
 ভালোবাসা শব্দটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
 আমি খুব কেজো মানুষ। সারাদিন কাজ করি। সেটাই আমার ভালোবাসা। হইহই করে বাঁচতে ভালোবাসি। জীবন মানে আমার কাছে উৎসব। মন খারাপও হয়। তারপর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে কাজে ফেরাটাই আমার কাছে অনেক। সেটাই বোধহয় ভালোবাসা। 
 এখন অনুষ্ঠানে শ্রোতারা স্বল্পশ্রুত গান শুনতে চান? 
 কয়েকদিন আগের একটা অনুষ্ঠানে আমি যেসব গান কম গাই, সেগুলো শুনতে চেয়েছেন শ্রোতারা। তখন ভাবলাম, আরো কয়েক বছর গাওয়া যায় (হাসি)। নাহলে মাঝেমধ্যে বলি, বুড়ো হয়ে গেলাম...। চারদিকে যা চলছে তার সঙ্গে নিজেকে চালাতে পারছি না। তারপরই মনে হয়, আমি তো পারফর্মার। যখন দেখি, মাঠ ভরতি ১০ হাজার মানুষ। তাঁরা আমার গান শুনতে চাইছেন। তখন খুব আনন্দ হয়।

 অরিজিনাল মিউজিক হারিয়ে যাচ্ছে বলেন অনেকে, আপনার অভিজ্ঞতা তো তাহলে অন্য?
 না, তবুও বলব, অরিজিনাল মিউজিকের সত্যিই দুর্দিন। তার কারণও বুঝতে পারি। আমাদের সময়টা অনেকগুলো কোম্পানি একসঙ্গে কাজ করত। এখন গান শোনার থেকে দেখাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার মনে হয়, মানুষ এখন অল্পে বিরক্ত হয়ে যান। এটাতেও বিরক্ত হয়ে যাবেন। নতুন কিছু আসবে। আমার নিজস্ব বোধ বলছে আবার অ্যালবামেই ফিরে আসা উচিত। শ্রোতারা শুনুক না শুনুক, আমার অন্তত এই কাজটাই করা উচিত বলে মনে করি।

 শ্রোতার শোনার অভ্যেসে কী কী সদর্থক বদল এসেছে? 
 অনেক রকম গান শুনছেন শ্রোতারা। কিন্তু নতুন প্রজন্ম বাংলা পড়ে না। জানে না। আর বাংলার থেকে অন্য কিছু অনেক বেশি চকচকে। যা বেশি চকচকে তা ওদের বেশি আকর্ষণও করে। আন্তর্জাতিক গান শুনছে ওরা। আমাদেরও দায় রয়েছে। আমরা ওদের আকর্ষণ করতে পারছি না। 

 গান বানাচ্ছেন যাঁরা, দায় তো তাঁদেরও?
 অবশ্যই। টিপিক্যাল এক ধরনের গান এখন চলছে। কিন্তু বাংলা গানের একটা ইতিহাস তো রয়েছে। জানি না, হঠাৎ করে হয়তো আবার ফিরে আসবে। শিখে গান গাওয়ার অভ্যেস কমে যাচ্ছে। রিয়ালিটি শো-এ প্রথম, দ্বিতীয় হয়ে গাইতে শুরু করে দিচ্ছে। ফলে নিজস্ব কোনো গান তৈরি হচ্ছে না। সবেতেই এখন দ্রুত সাফল্য চাই। রিলস বানাব, এটা কোনোদিনও ভাবতে পেরেছিলাম? এখন আর গান গাইতে ইচ্ছে করে না। মনে হয় কে শুনবেন? আসলে আমরা তো ওটা পেয়ে এসেছি। মানুষ অপেক্ষা করতেন নতুন গানের জন্য। সেই অভ্যেসটা চলে গিয়েছে বলে হয়তো ভিতরে কোথাও অভিমান রয়েছে। এটা অস্বীকার করব না। কিন্তু কিছু করলে আমরাই করতে পারি।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ