Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাম বাদ গেলেও ভোটের ডিউটিতে শিক্ষক দম্পতি!

এসআইআর-এ নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তারপরও আসন্ন নির্বাচনে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে এক শিক্ষক দম্পতিকে! এই ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কল্যাণীতে।

নাম বাদ গেলেও ভোটের ডিউটিতে শিক্ষক দম্পতি!
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কল্যাণী: এসআইআর-এ নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তারপরও আসন্ন নির্বাচনে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে এক শিক্ষক দম্পতিকে! এই ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কল্যাণীতে। জানা গিয়েছে, সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় আমডাঙা হাইস্কুলের শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী তনুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় হরিণঘাটার জাগুলির রাজলক্ষ্মী কন্যা বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকা। এই দম্পতির নাম বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিটেড’! অথচ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁদেরই ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সপ্তর্ষিবাবুকে প্রিসাইডিং অফিসার এবং তাঁর স্ত্রী তনুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফার্স্ট পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁরা দু’দিনের প্রশিক্ষণও নিয়ে এসেছেন। আরও একদিনের প্রশিক্ষণ বাকি রয়েছে বলে খবর। 

Advertisement

নিজেরাই যেখানে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না, সেখানে ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব পালন কীভাবে করা সম্ভব? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ গেল, তা নিয়েও ওই দম্পতি সম্পূর্ণ অন্ধকারে। সপ্তর্ষিবাবু বলেন, ‘নিজেদের ভোটাধিকার নেই। অথচ আমরাই লোকের ভোট দেওয়া নিশ্চিত করব! বিষয়টি কমিশনকে জানিও কোনো কাজ হয়নি। বলা হয়েছে, ভোটের ডিউটি করতেই হবে। আমার, মা, বাবা আর স্ত্রীকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। এরপর মা-বাবার নাম ভোটার তালিকায় উঠলেও ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় আমার ও স্ত্রীর নাম বাতিল হয়ে যায়।’ 
একই চিত্র দেখা গিয়েছে চাকদহেও। এখানকার শিলিন্দা-১ নং পঞ্চায়েতের কৃষ্ণগোপাল বিদ্যাপীঠের (উচ্চ মাধ্যমিক ) ইংরাজি শিক্ষক উজ্জ্বল সাধুখাঁ ফাস্ট পোলিং অফিসারের ডিউটি পেয়েছেন। তাঁরও নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর বাড়ি চাকদহ ব্লকের দুবড়া পঞ্চায়েতের চাকডোপ গ্রামে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবার নামের বানান ভুল আছে। সেই কারণে আমাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার বাবা, মা, স্ত্রী এবং দিদিদের নাম আছে।’
জানা গিয়েছে, কল্যাণী মহকুমা এলাকায় ভোটের ডিউটি করা এমন একাধিক সরকারি বা আধা সরকারি কর্মীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তবুও তাঁদের ‘গণতন্ত্রের উৎসবে’ শামিল হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কল্যাণীর মহকুমাশাসক প্রীতম সাহা বিশেষ কিছু বলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, ‘বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ