নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ওয়ার্ড বিন্যাসের খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই ইভিএম আসছে শিলিগুড়িতে। প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামীকাল, শুক্রবার হাওড়া থেকে প্রায় ৯০০ ইভিএম আসবে। আগামী সপ্তাহ থেকে প্রথম পর্যায়ের ইভিএম পরীক্ষা শুরু হবে। প্রশাসনের এমন তৎপরতা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তাদের ধারণা, এবার পুর নির্বাচন এগিয়ে আনতে পারে রাজ্য সরকার।
দু’দিন আগে সোমবার শিলিগুড়ি পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাসের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তা করেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্কর। সেই খসড়া তালিকা নিয়ে এখন নাগরিকদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় আগামীকাল হাওড়া থেকে এখানে আসবে ইভিএম। প্রশাসন সূত্রের খবর, এখানে ৯০০ ইভিএম আসবে। এতে ৯০০টি করে কন্ট্রোল ও ব্যালট ইউনিট রয়েছে। সেগুলি মজুত করা হবে সুভাষপল্লির গোডাউনে।
প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো ওই ইভিএমগুলি আসছে। তা দিয়ে পুরনির্বাচন করা হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে সেগুলি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করার কাজ শুরু হবে।
এদিকে, শহরে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও বুথ সংখ্যা একই রয়েছে। তা প্রশাসনের প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকেই স্পষ্ট। প্রশাসন সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র দু’টির অংশ নিয়ে এই পুরসভা। এতদিন এখানে ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ৪৭টি। তাতে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ২৪৫টি বুথে ছিল ৩৩টি ওয়ার্ড। আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭৬টি বুথের মধ্যে ছিল ১৪টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ, এই পুরসভায় দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ৪২১টি বুথ রয়েছে। এবার সেই বুথ সংখ্যা একই রয়েছে। শুধুমাত্র ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৩টি করা হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে সর্বদলীয় বৈঠক করা হবে।
সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির সদস্য শরদিন্দু চক্রবর্তী ও জেলা কংগ্রেস সভাপতি সুবীন ভৌমিক দু’জনেরই বক্তব্য, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই খসড়া ওয়ার্ড বিন্যাস করা হয়েছে। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সহ সভাপতি রাজু সাহা বলেন, নির্বাচনে হারের ভয়ে বিরোধীরা আবলতাবল বকছে।
এদিকে, শিলিগুড়ি পুরসভার ভোট নিয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতিতে বিভিন্ন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পুরভোট হয়েছিল। এবার হয়তো ভোট এগিয়ে আনা হবে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ওয়ার্ড বিন্যাসের তালিকা চূড়ান্ত করার পর আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা বের করা হবে। সম্ভবত পুজোর আগেই তা করা হবে।