


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে সোমবার চাকরি প্রার্থী থেকে শুরু করে ফ্ল্যাট না পেয়ে প্রতারিত হওয়ার সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন। চাকরিপ্রার্থী, চাকরিহারা মানুষ যেমন শুনিয়েছেন তাঁদের সমস্যার কথা, তেমনই মহিলা পুলিশের চাকরি জন্য আগ্রহী জানিয়েছেন, উচ্চতাজনিত কারণে বঞ্চিত হওয়ার কাহিনী। তবে সবকিছু ছাপিয়ে জনতার দরবারে এদিন নজর কেড়েছেন ভবানীপুরের অশীতিপর প্রবীর মুখোপাধ্যায়। পৈতৃক ভিটে প্রোমোটারকে দিয়েও যিনি প্রাপ্য ফ্ল্যাটটি পাননি। বরং ফ্ল্যাট চাইতে গিয়ে আরও ১৭ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে হুমকি জুটেছে তাঁর। ভাড়া বাড়িতে থাকেন এখন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের সমস্যা জানানোর পর প্রবীরবাবু জানিয়েছেন, আশ্বস্ত হলাম। সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত সোমবারের মতো এদিনও সল্টলেকে বিজেপি অফিসে জনতার দরবারে সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সকাল ৯টায় শুরু হয় এই দরবার। এদিন চাকরি প্রার্থীদের ১৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা শুনিয়েছেন। ও এম আর শিটের নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্যতার মাপকাঠিতে ফ্রেশ সিলেকশন করা হোক, এমনটাই দাবি ছিল তাঁদের। যোয্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চের আহ্বায়ক সুমন বিশ্বাস বলেন, রাজ্যের ২২ লক্ষ চাকরি প্রার্থীর ও এম আর প্রকাশ, ও এম আরের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বর, অ্যাকাডেমিক এবং ন্যূনতম ১০ নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ দীর্ঘদিনের দাবি। এই বিষয়ে নবান্নে যাতে একটি বৈঠক করা যায়, তার জন্য চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আরজি জানানো হয়েছে। জনতার দরবারে এসেছিলেন পুলিশের চাকরিতে আগ্রহী সুস্মিতা ধারা নামে এক তরুণী। তাঁর কথায়, জনগণনা অনুযায়ী, এ রাজ্যে মহিলাদের গড় উচ্চতা ১৫১.১ সেমি। কিন্তু মহিলা পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চতা নির্ধারিত রয়েছে ১৬০ সেমি। যা অনেকটাই বেশি। কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন বাহিনীতে পুলিশ নিয়োগের জন্য মহিলাদের উচ্চতা ১৫৭ সেমি নির্ধারিত রয়েছে। রাজ্য পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে মহিলাদের উচ্চতা সংক্রান্ত ওই সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী নিয়োগ এবং কিছু সরকারি চাকরিতে অনাথদের সংরক্ষণের দাবিতেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আরজি জানানো হয়।
অপরদিকে, ভবানীপুরের ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অশীতিপর প্রবীর মুখোপাধ্যায় তাঁর পৈতৃক ভিটে দিয়েছিলেন জয় কামদার, সোনা পাপ্পু ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসদের। ঠিক হয়েছিল, ওখানে তৈরি বহুতলে একটি ফ্ল্যাট পাবেন প্রবীরবাবু। কিন্তু তা মেলেনি। উলটে ফ্ল্যাট নিতে হলে ১৭ লক্ষ টাকা মেটাতে হবে বলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে,বন্দুক দেখানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সে অভিযোগও করেন তিনি। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, প্রবীরবাবুর দেওয়া জমিতে ভবানীপুরের টাউনসেন্ড রোডে ওই আবাসনটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। দোতলায় যে ফ্ল্যাটটি প্রবীরবাবুর পাওয়ার কথা ছিল, সেটি ইতিমধ্যেই এক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের পুত্রকে ‘উপহার’ হিসেবে দিয়ে দিয়েছে জয় কামদার।