নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েকদিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে দুটি শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। একটি থেকে ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে জোরালো ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। অন্যটিও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে নভেম্বরের শুরুতে। আশঙ্কা এমনই। এল নিনোর সময়ে এটা কিছুটা অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এল নিনোর সময় সাধারণত বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। তুলনায় আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকে এইসময়ে। কিন্তু এবার এখনো আরব সাগরে একটিও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়নি। এল নিনোর তীব্রতা এবার রেকর্ড ভাঙতে চলেছে বলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ইতিমধ্যে জানিয়েছে। এবার সুপার এল নিনো হচ্ছে। সেই কারণেই এই পরিবর্তন কি না সেই প্রশ্ন উঠছে।
প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলে জলের উষ্ণতা বাড়লে এল নিনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জলের উষ্ণতা ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে এল নিনো তীব্রতা সর্বাধিক থাকবে বলেই মত আবহাওয়াবিদদের। আগামী মার্চ পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে আমেরিকার ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধির জেরে আগামী ছমাসের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ লক্ষ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। মার্চের মধ্যে সংখ্যাটি ভারতের ক্ষেত্রে হতে পারে ৫৫ হাজার! আগের সমীক্ষা রিপোর্টের তুলনায় এখন ভারতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ও ব্রাজিলে মৃত্যু বেশি হতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদদের একাংশ বলছেন, এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত মৃত্যু যে হয়েছে, তা অবশ্য নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার সুযোগ নেই।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, এবার ঘূর্ণিঝড় বেশি হচ্ছে এমনটা বলা যায় না। বছরে দুটি সময়ে (এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর) আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সব মিলিয়ে গড়ে ৫-৬টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এবার এখনো পর্যন্ত একটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। অতীতে এমন বছরও গিয়েছে যেবার কোনো ঘূর্ণিঝড় হয়নি। আবার ৭-৮টি ঘূর্ণিঝড় হওয়ার নজিরও আছে। এল নিনোর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন। মত আবহাওয়াবিদদের।
আজ শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও লাগোয়া আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় গভীর নিম্নচাপ তৈরি হবে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। গভীর নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় সেটি আরও শক্তিশালী হয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে। এটি শেষপর্যন্ত আরও শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না আবহাওয়া দপ্তর শুক্রবার তা জানায়নি। পশ্চিমবঙ্গের উপর এই সিস্টেমের আপাতত কোনো প্রভাব না-থাকলে এর গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। অর্ণবের অবশিষ্টাংশ শুক্রবার নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উত্তর ছত্তিশগড় এবং লাগোয়া পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর ছিল। এদিন দুপুর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি অনেক কমে গিয়েছে। আজ শনিবার দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার আরও উন্নতি হবে। শনিবার উত্তরবঙ্গের পাহাড় লাগোয়া কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।



