নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সোমবার কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে রাজ্যের লৌহ আকরিক ও স্টিল ফ্যাক্টরির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। স্পঞ্জ আয়রন কারখানার মালিকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মূলত নতুন বেতনচুক্তি নিয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ছিল। তাতে দূষণ নিয়ে নতুন সরকারের কড়া মনোভাব প্রকাশ্যে এসেছে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দূষণবিধি মেনেই কারখানা চালাতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেইসঙ্গে প্রত্যেক শ্রমিকের পিএফ ও ইএসআই পাওয়া নিশ্চিত করতেও বলেছেন নতুন শ্রমমন্ত্রী। এতে খুশি সিটুর মতো বিজেপি বিরোধী শ্রমিক সংগঠনও।
এদিনের বৈঠকে মন্ত্রী ছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান জেলার তিন বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই, জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়; বিএমএসের রাজ্য সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, সিটু সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নতুন বেতন চুক্তি দেড়বছর ধরে বকেয়া রয়েছে। এই সেক্টরের শতাধিক কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সবচেয়ে বেশি শ্রমিক রয়েছেন পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম জেলায়। কেন্দ্রের লাগু করা শ্রম কোডে যে মজুরির উল্লেখ রয়েছে, তাই কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করেছে রাজ্য সরকার। অপরদিকে, শ্রমিক সংগঠনের তরফে কারখানার দূষণ, শ্রমিকদের পিএফ, ইএসআই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার বিষয় তোলা হয়। নতুন সরকার এসমস্ত ইস্যুতেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে।
সিটু নেতা তাপস কবি বলেন, মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, শ্রমিক একদিন কাজ করলেও তাঁকে পিএফ, ইএসআই দিতে হবে। দূষণ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন।
পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, কারখানা থেকে ইচ্ছেমতো দূষণ ছড়ানো যাবে না। সবাইকে সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, প্রথম বৈঠকে বেতন চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। আলোচনা হয়েছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল আয়রন অ্যান্ড স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শংকরলাল আগরওয়াল বলেন, বেশিরভাগ কারখানাই সরকারি নিয়ম মেনে চালানো হয়। যাঁরা নিয়ম মানছে না, তাঁদের নিয়ম মানতে হবে।
মালিকপক্ষ নিয়ম মানার কথা বললেও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন। রানিগঞ্জের মঙ্গলপুর শিল্পতালুকে কারখানাগুলির পাশাপাশি জাতীয় সড়কও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া শিল্পতালুকেরও সবচেয়ে বড় সমস্যা দূষণ। বিগত সরকার কর্তৃপক্ষকে বারবার দূষণবিধি মানার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। নতুন সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়, না খাতায়-কলমেই থেকে যায়-সেটাই এখন দেখার বিষয়।



