নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তৃণমূল জমানায় বঞ্চিত থাকার পর আশা ছিল বিজেপির আমলে শিঁকে ছিড়তে পারে আরামবাগের কপালে। আরামবাগবাসী ভেবেছিলেন এবার হয়তো মহকুমার কোনো বিধায়ককে মন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু ব্রাত্যই রইল আরামবাগ। সোমবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হল। তাতে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভার বিধায়করা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। কিন্তু আরামবাগ মহকুমা থেকে কোনো বিধায়ক রইলেন না সেই তালিকায়। যার ফলে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে। বিজেপির কর্মীরাও আড়ালে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
যদিও এই ব্যাপারে বিজেপির আরামবাগ সংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, কাকে মন্ত্রী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী তথা শীর্ষ নেতৃত্বের। এই ব্যাপারে আমাদের মতামত দেওয়ার কোনো জায়গাই নেই। তবে কেউ মন্ত্রী হলে ভালো লাগত। দল বা সরকার হয়তো বিকল্প কোনো কাজে কাউকে লাগাতে পারে।
আরামবাগ মহকুমার চারটি বিধানসভায় ২০২১ সালেই পদ্ম ফোটে। সেবারই হুগলি জেলায় প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে আরামবাগ মহকুমার চার আসনে বিজেপি প্রার্থীরা জেতেন। এবারও আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সাতটি আসনে বিজেপি জিতেছে। পুরশুড়া ও খানাকুলের বিধায়করা দু’ বার জয়ী হয়েছেন। জয়ের ব্যবধানও বাড়িয়েছেন। তাই তাঁদের মধ্যে কেউ মন্ত্রীত্ব পেতে পারেন বলে জল্পনা ছিল। এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিমানবাবু মন্ত্রী হচ্ছেন বলে চর্চাও শুরু হয়। তিনি আরামবাগ সাংগঠনিক জেলায় দু’ বার সভাপতি হয়েছেন। দায়িত্ব সামলেছেন যুব মোর্চারও। যদিও তিনিও ডাক পাননি।
বিমানবাবু অবশ্য এই প্রসঙ্গে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে তাতেই আমরা আপ্লুত। মন্ত্রীত্ব নিয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমাদের দলে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্তবাবু বলেন, দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। নতুন মন্ত্রীদের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ আরও বিকশিত হবে।
উল্লেখ্য, বাম আমলে মন্ত্রী পেয়েছিল আরামবাগ মহকুমা। মন্ত্রী হয়েছিলেন সিপিএমের নিমাই মাল। পুরশুড়া থেকেও জিতে মন্ত্রী হন সিপিএমের অঞ্জন বেরা। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তন হয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। দল ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও মহকুমা থেকে কেউ মন্ত্রীত্ব পাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে। কিন্তু এবার বিজেপি সরকারের আমলে প্রত্যাশা চড়ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরামবাগের বিজেপির এক নেতা বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে কোনো বিধায়ককে হুগলি জেলা তথা রাজ্যের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় দেখা যায়নি। বিজেপি সরকারের আমলে একাধিক বিধায়কের সেই সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরেও কেউ মন্ত্রী না হওয়ায় হতাশ লাগছে। তবে দল নিশ্চয় পরবর্তী ক্ষেত্রে বিষয়টি ভাববে।
খানাকুলের বাসিন্দা অমিত আঢ্য, আরামবাগের সুমন দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আরামবাগ মহকুমা থেকে কেউ মন্ত্রী হননি। এবার কেউ মন্ত্রী হলে ভালো হতো।