বদলের জমানাতেও অজয় নদের বালি তুলতে ভিনজেলার চালান! তদন্তের দাবি
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: তৃণমূলের আমলে বালিঘাটে অন্য জেলার চালান ব্যবহার করা হতো। তাতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাত সরকার। পরিবর্তনের জমানাতেও সেই ছবির বিশেষ কোনো রদবদল হয়নি। বালিঘাটে ভুয়ো চালানের রমরমা কারবার চলছেই। দু’ মাস আগেও মঙ্গলকোটে অজয়ের বালি তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে বীরভূম, বাঁকুড়ার চালান। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, ভুয়ো চালান নিয়ে সঠিক তদন্ত হলে অনেক রাঘববোয়াল ধরা পড়বে। 

Advertisement

অজয় নদে বালিঘাটে একাধিক সরকারি ইজারাদার রয়েছেন। বেশ কয়েকটি বালিঘাটে এখনও কেউ কেউ বালি তুলে ভিনজেলার চালান ব্যবহার করছে। পশ্চিম বর্ধমানের একটি বড়সড় চক্র এমনটা করছে বলে অভিযোগ। ১ জুলাই মঙ্গলকোটের কৈচরে বেশ কয়েকটি বালির গাড়ি ধরা পড়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, বাঁকুড়া জেলার বরজোড়া মৌজার বামুনডিহি এলাকায় দামোদর নদীর চালান দেখানো হয়েছিল পুলিশকে৷ আর ইজারাদার হিসাবে পশ্চিম বর্ধমানের এক ইজারাদারের নাম ছিল৷ আর একটি গাড়িতে আবার বীরভূমের রামপুরহাটের বাজিতপুর এলাকায় দ্বারকা নদের চালান দেখানো হয়েছিল৷ সেখানেও পানাগড় এলাকার এক ইজারাদারের নাম দেখা গিয়েছিল৷ ৪ জুলাই মঙ্গলকোটের নতুনহাটে আবার তিনটি ডাম্পার আটক করেছিল পুলিশ৷ পাশাপাশি তিনজন ডাম্পার চালককে গ্রেপ্তারও করেছিল বেআইনি বালি নিয়ে যাওয়ার জন্য। ঘটনা হচ্ছে, রাস্তায় যে কোনো জেলা থেকে বালি তুলে নিয়ে যেতে কোনো নিষেধ নেই৷ কিন্তু অভিযোগ, কারবারিরা পুলিশি ধরপাকড়ের ভয়ে অজয় থেকে বালি তুলেও ভিন জেলার চালান ব্যবহার করছে রাস্তায়। আর এটা নিয়েই তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷
তৃণমূল জমানাতে মঙ্গলকোটজুড়ে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হতো এই ভুয়ো চালানের দৌলতে। বেশ কয়েকজন বালি কারবারি অপরাধ করেও এখন গা বাঁচাতে চুপ রয়েছে৷ স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলকোট এলাকার ওইসব কারবারিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে আসবে। 
পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) মলয় রায় বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই। ভুয়ো চালান পেলেই মামলা করি।’  নতুনহাট, মঙ্গলকোট গ্রামে কান পাতলে এখনও শোনা যায় সেই সব অতীত দিনের কথা। এক বালি কারবারি আগে গাছ কাটার কাজ করত৷ এখন সে দামী গাড়িতে চড়ে৷ বালিঘাটের সৌজন্যে বাদশা হয়ে উঠেছিল৷ বক্সিনগর গ্রামে তৃণমূল জমানায় তার লঙ্গরখানা চলত৷ এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিজের ইমেজ ঠিক রাখতে ওই কারবারি ত্রাতা সাজতে চেয়েছিল৷ অজয় পাড়ে গেলেই তার সঙ্গীদের দেখে টুঁ শব্দ করতে পারত না বহু ইজারাদারও৷ ভুয়ো চালান এর বড়সড় চক্র রয়েছে মঙ্গলকোটেও৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামলেই বহু কেষ্টবিষ্টুর নাম বেরিয়ে আসবে৷ আরও অভিযোগ, চালানে যে ডাম্পার বা লরির নম্বর লেখা থাকত আদতে সেই গাড়িতে বালি পরিবহন হত না। পুলিশকে রাস্তায় শুধু আইওয়াশ করতেই ভিন জেলার চালান ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ৷ কাটোয়ার বিজেপি নেতা অনিল দত্ত বলেন, ‘পরিবর্তনের পরেও ভুয়ো চালান ব্যবহার করছিল কেউ কেউ। আমি নিজে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছিলাম। প্রশাসনকে বলেছি, এসবের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিতে।  ভিন জেলার বালির চালান দেখাচ্ছেন এক লড়ি চালক।-নিজস্ব চিত্র