সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: কবি গুরু সেই কবেই বলে গিয়েছেন—‘ভালোবাসার ফাঁদ পাতা রয়েছে ভুবনে...।’ এখন প্রযুক্তির ভুবনায়ন। চলছে ডিজিটাল যুগ। বদলে গিয়েছে ভালোবাসা সংজ্ঞাও। আশির কিংবা নব্বই দশকে প্রেম-ভালোবাসার পিছু পিছু চলত ভয়ভীতি। ছিল আবেগ, অনুভূতিও। পছন্দের কাউকে একটা গোলাপ দিতে হাত কাঁপত। ধড়াস করে উঠত বুকটাও। এখন এসবের কিছু বালাই নেই। ডিজিটালি ‘লাভ’ কিংবা ‘রোজ’ ইমোজি পাঠিয়ে মন পরীক্ষা। সেখানে কেউ ‘লাইক’ ইমোজি দিলেই কেল্লাফতে! ভুল করে কারও লাইকে আঙুল পড়ে গেলেও অপরপক্ষ ভেবে নেন, সব ঠিকঠাক। আর সেটাই ডেকে আনছে বিপদ। সুবেশা কোনও তরুণী যদি লাভ ইমোজি শেয়ার করে, তা হলে কোন যুবকেরই বুকের পাট্টা রয়েছে, তাকে এড়িয়ে যাওয়ার! যাওয়া যায় না বলেই ফাঁদও থাকে তৈরি। একবার সেই ফাঁদে পা দিলেই নিঃস্ব।
সাহিদ, জামিররা সুবেশা তরুণী কিংবা সুন্দরী ডিভোর্সিদের সঙ্গে প্রেম-নির্মাণের নিখুঁত চিত্রনাট্য লিখে, বিয়ের টোপ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারিত হয়েছেন বহু ধনী মহিলাও। পুলিশের তদন্তে উঠে আসছে আবার উল্টো ছবিও। সেই ছবিতে প্রতারকের ভূমিকায় অপ্সরার মতো দেখতে সুন্দরীরা। সবাই কিন্তু ভেকধারী। কৌশল অবশ্য একই। সেই ম্যাট্রিমনি অ্যাপস। সেখানে প্রেম-ভালোবাসার অভিনয়। তারপর একদিন প্রেমিক যুবকের টাকা আত্মসাৎ করে ডিজিটালি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া! এভাবে কত যুবকের যে হৃদয় ভেঙেছে, অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়েছে, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। তদন্তকারীদের ভাষায় গ্যাংটি ‘লুটেরা দুলহন’। মেট্রোমনি অ্যাপসে গ্যাংটি সুন্দরী যুবতীদের ছবি ব্যবহার করে প্রোফাইল খুলত। সেইসব ছবি দেখে মুগ্ধ হতেন বহু যুবক। দু’একদিন মিষ্টি মিষ্টি কথা বলার পর বিয়ের প্রস্তাব। অতীব সুন্দরীর প্রস্তাবে হাতুড়ি পেটা শুরু হতো বুকে। এরপর সুযোগ বুঝে দফায় দফায় টাকা আত্মসাৎ।



