নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দাম বেড়েছে, চিনি কি আর পাওয়া যাবে আগের মতো? এরকম দুশ্চিন্তা নিয়ে যাদবপুর কফি হাউজে ঢুকলে এখনও হতাশ হতে হচ্ছে না কফি প্রেমিকদের। কারণ কফি হাউজ সেই আগের মতোই এক বাটি চিনি টেবিলে দিয়ে যাচ্ছে। বাটি থেকে ইচ্ছা মতো চামচে তুলে চিনি নেওয়া যাচ্ছে। পরিমাণ নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। চিনির যে হারে দাম বেড়েছে, যে হারে চিনি নিয়ে চর্চা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে, তারপর কফির টেবিলে সে প্রসঙ্গ উঠবে না এমন হতেই পারে না। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাড়তি দাম নিয়ে কপাল কুঁচকে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনই এক বাটি চিনি দেওয়ার উদারতা নিয়েও চলছে প্রশংসা।
চিনির দাম বৃদ্ধি নিয়ে মোদি সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ি করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কলকাতায় চিনির দাম কেজি প্রতি ৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে জানিয়েছে ক্রেতারাও। এই পরিস্থিতিতেও যাদবপুর কফি হাউজ তাদের লিগ্যাসি ছাড়েনি। কফিতে গুলে খাওয়ার জন্য এক বাটি চিনি দস্তুরমতো ফ্রিতে দিচ্ছে তারা। তাই হাউজ কর্তৃপক্ষকে এবং ওয়েটারদের বাহবা ছুড়ে দিচ্ছেন নিয়মিত ক্রেতারা। ‘আপনারা যে এখনও এতটা করে চিনি দিচ্ছেন, তার জন্য ধন্যবাদ,’ বলছেন ক্রেতারা। বলতে বলতে অনেকের মনে পড়ছে, আরে শুধু চিনি কেন? পিঁয়াজেরও তো বেজায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে! এগরোল কিংবা চাউমিনের সালাডে মোটেও পিঁয়াজ দিচ্ছে না দোকানগুলি। পেঁয়াজ চাইলেই মুখ হাঁড়ি তাদের। এসব নিয়ে রোজই কথা কাটাকাটি। সম্ভবত সেই কারণেই অনেক দোকানে নোটিস টাঙিয়ে দিয়েছেন, ‘পিঁয়াজ চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’
এখন পিঁয়াজকে হারিয়ে দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির শীর্ষস্থানে রয়েছে চিনি। তা সত্ত্বেও যাদবপুরের কফি হাউজ কোন জাদুবলে এখনও চিনির জোগান অব্যাহত রেখেছে? হাউজের এক পদাধিকারী বলেন, ‘আসলে আমরা তো চিনি মজুত রাখি। তাই এখনও পর্যন্ত মজুত চিনি দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে পারছি। তবে সপ্তাহখানেক বাদে কিনতে হবে। তখনও যদি দাম না কমে তাহলে সমস্যা হবে।’ হাউজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য আশাবাদী, চিনির দাম অচিরেই কমবে। হাউজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও আশা যে, জিনিসপত্রের দাম কমবে। সকলে বলছে, গত কয়েক বছর ধরে যে হারে মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। শিল্পপতিদের কোটি কোটি টাকা ঋণ মকুবের বিষয়টি যতটা দরদের সঙ্গে দেখা হয়, ততটা না হলেও খানিক অন্তত সংবেদনশীলতার সঙ্গে গরিবের দিকে নজর দেওয়া হোক।
চা-টোস্টের সঙ্গে একবাটি চিনি। -নিজস্ব চিত্র