


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: আজ কালীপুজো উৎসবের শেষ দিন। আলোর রোশনাইয়ের জন্য আবার অপেক্ষা একবছরের। শেষবেলায় রঙিন বাতির আলোয় ঝলমল করেছে বারাসত। বেজেছে স্বর্ণযুগের গান। রাত যত ঘনিয়েছে তত বেড়েছে মানুষের ভিড়। আজ, বৃহস্পতিবার ভাইফোঁটা। আজ রাত ১২টায় বন্ধ হয়ে যাবে প্যান্ডেলের আলো। তারপর উৎসবের আলো নিভে বেরঙিন হয়ে পড়বে বারাসত ও মধ্যমগ্রাম। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্যান্ডেল হপিং চলল দেদার। ভোরের আলো ফোটার আগে পর্যন্ত চলল ঠাকুর দেখা। রাস্তা, গলি, প্যান্ডেল জনসমুদ্র। শেষবেলায় আনন্দ চেটেপুটে নিল জনগন।
বারাসতের কালীপুজোয় মঙ্গলবার হয়েছিল রেকর্ড ভিড়। বুধবার রাত যত বেড়েছে ভিড়ের মাত্রা সমানতালে বেড়েছে। অত্যধিক ভিড়ের কারণে ঠাকুর দেখায় বিলম্ব ঘটে সবার। ফলে বুধবার রাতভর ঘুরেছে মানুষ। জাতীয় সড়কের ধারের পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের জমাট ভিড় শুরু হয় রাতের দিকে। সন্ধ্যার পর বারাসতের পুলিশ সুপার শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নজরে রাখতে বারাসত কলোনি মোড়ে পুলিশের পক্ষ থেকে উঁচু মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। মঞ্চে পুলিশকর্তারা পরিস্থিতি নজরে রেখেছিলেন। বারাসত থানার আইসি মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বারাসত পুলিশ জেলার ফেসবুক পেজে লাইভ করে পুলিশি ব্যবস্থাপনার বিষয় তুলে ধরেন। আমরা সবাই ক্লাবের পুজো মণ্ডপে এদিন নতুন করে ব্যারিকেড তৈরি প্রসঙ্গে বারাসতের এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্কা আনন্ত বলেন, পুলিশের কাছে সবার আগে দর্শনার্থীদের সুরক্ষা। মঙ্গলবার অত্যধিক ভিড় হয়েছিল আমরা সবাই ক্লাবের মণ্ডপে। পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি রুখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে গভীর রাতে মণ্ডপে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ করা হয়। বুধবার দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে শক্তপোক্ত ব্যারিকেড করা হয়েছে। আমরা সবাই ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তা অরুণ ভৌমিক বলেন, দ্বারকা সাম্রাজ্যের আদলে মণ্ডপ দেখতে মঙ্গলবার অপ্রত্যাশিত ভিড় হয়েছিল। আমাদের কাছেও দর্শনার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। তাই পুলিশের নির্দেশে এদিন নতুন করে মণ্ডপের সামনে ব্যারিকেডের চ্যানেল করা হয়েছে।
অন্যদিকে বুধবার বারাসতের সন্ধানী ক্লাবের পুজো মণ্ডপের বাঁশ ও কাঠের কাঠামো অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এদিন আধঘণ্টা মণ্ডপে ঢুকতে দেওয়া হয়নি কোনও দর্শনার্থীকে। পরে মণ্ডপের সিঁড়ি মেরামত করা হয়েছে। টাকি রোডের একাধিক বিগ বাজেটের পুজোয় রাতের পর ভিড় বাড়ে। তবে বারাসতে সন্ধ্যা থেকেই ভিড় হতে থাকায় অনেক দর্শনার্থী মধ্যমগ্রামে ঠাকুর দেখতে চলে যান। বারাসতের হেলাবটতলায় দাঁড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীদের বলতে শোনা যায়, এখন বারাসতে প্রচুর ভিড়। তাই ফাঁকায় ফাঁকায় বাইকে করে মধ্যমগ্রাম ঘুরে আসব। গভীর রাতে বা ভোরে বারাসতের প্যান্ডেল দেখব। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক দর্শনার্থীর টিপ্পনি, রাতে বারাসত ফাঁকা হবে, এটা কল্পনাতীত। কারণ এটাই শেষ রাত। তাই গুঁতোগুঁতি করেই প্যান্ডেল দেখতে হবে। তবে শুধু প্যান্ডেল হপিং নয় অনেকে আবার এদিন ভাইফোঁটার মিষ্টি কেনাকাটা করতেও বেরিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে আলো আর জনস্রোতের প্রতিযোগিতার উষ্ণতায় ফুটেছে বারাসত।