নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: পুজো মিটলেও ছুটির আমেজ কাটছে না মালদহ মেডিকেলে। এনিয়ে শুক্রবার ভিডিয়ো কনফারেন্স বৈঠকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল স্বাস্থ্যভবন। অভিযোগ, দ্বাদশীতেও মালদহ মেডিকেলে নন মেডিকেল স্টাফদের বেশিরভাগই কাজে যোগ দেননি। ফলে প্রিন্সিপাল ও এমএসভিপির অফিস সহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কার্যত কোনো কাজকর্ম হচ্ছে না। নন মেডিকেল স্টাফদের পাশাপাশি চিকিৎসকদের একাংশও ছুটিতে থাকায় পরিষেবা দিতে গিয়ে বাকিদের হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। সবটা নিয়েই এদিনের বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যভবনের কর্তারা। দ্রুত যাতে প্রত্যেকে কাজে ফেরেন, তা দেখতে বলা হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তবে পুজোর মধ্যে শিশুদের ইমিউনিটির ওষুধের জোগান না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় মালদহ মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে। ‘লোকাল পারচেজ’ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এ অবস্থায় দুর্গাপুজো সামাল দেওয়া গেলেও দীপাবলিতে কী হবে, তা নিয়ে চিন্তিত মালদহ মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। কালীপুজো ও দীপাবলির সময়ে কোনোভাবে যাতে চিকিৎসা পরিষেবা ভেঙে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে চিকিৎসকদের নতুন ডিউটি রোস্টার তৈরির জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালদহ মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি গণেশচন্দ্র গায়েন। তিনি বলেন, পুজো মিটলেও নন মেডিকেল স্টাফদের অনেকেই এখনও ছুটিতে। ফলে অফিসের কাজকর্ম কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে। এনিয়ে এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে স্বাস্থ্যভবনের কর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পুজো মিটলেও কেন এতজন এখনও ছুটিতে, তা নিয়ে জানতে চান। যদিও এমএসভিপির দাবি, ঠিকা এজেন্সির কর্মীরা ঠিকমতো বেতন না পেলেও পুজোর সময় তাঁরা কাজ করেছেন। ফলে কয়েকটি হাসপাতালে যেভাবে বর্জ্য জমে বেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তেমনটা হয়নি আমাদের মেডিকেলে।
এবার পুজোয় শিশুমৃত্যু ঠেকানোই মূল চ্যালেঞ্জ ছিল মালদহ মেডিকেল কর্তৃপক্ষের। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ১৫৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য স্বাস্থ্য প্রশাসনে তোলপাড় পড়ে যায়। পুজোর ছুটিতে কোনোভাবেই যাতে অস্বাভাবিক হারে শিশুমৃত্যুর ঘটনা না ঘটে, সেব্যাপারে মালদহ মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্যভবন। এরপরই পুজোর দিনগুলিতে শিশু বিভাগ সহ নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (নিকু) ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে সর্বক্ষণের জন্য চিকিৎসক যাতে থাকে, সেব্যাপারে নির্দেশ জারি করা হয়।
লো বার্থ ওয়েট বা কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুদের বাঁচাতে বিশেষভাবে নজর দিতে বলা হয়। এর জেরে কিছুটা হলেও পুজোর মরশুমে শিশুমৃত্যু ঠেকানো গিয়েছে বলে দাবি মালদহ মেডিকেল কর্তৃপক্ষের।
এমএসভিপির দাবি, অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত ৩৬টি শিশুর মৃত্যু ঘটনা ঘটে। পুজোর মধ্যেও কিছু শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এতে আত্মসন্তুষ্টির জায়গা নেই। দুর্গাপুজো পার করার পর এখন দীপাবলিতেও শিশুমৃত্যু আয়ত্তের মধ্যে রাখাই চ্যালেঞ্জ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।



