


সুখেন্দু পাল, রায়না: বামেরা অক্সিজেন দিচ্ছে। কিন্তু, তারপরও সবুজ ‘দুর্গ’ রায়নায় পায়ের তলায় মাটি পাচ্ছে না বিজেপি। এক সময় এই বিধানসভা কেন্দ্রে লাল ছাড়া অন্য কোনো দলের পতাকা দেখা যেত না। এখন তার উল্টোটা হয়ে গিয়েছে। রায়নার দু’টি ব্লকেই দাপট দেখাচ্ছে তৃণমূল। সে প্রচার হোক কিংবা লোকবল সব কিছুতেই তারা এগিয়ে। পলাশন সহ কয়েকটি এলাকায় সিপিএমের কর্মী-সমর্থক রয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তারা এখানে সাফল্য পেয়েছিল। ছোট একটা গণ্ডির মধ্যে তারা আটকে রয়েছে। বাকি অংশে তারা বিজেপিকে শক্তি জোগাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু তারপরও বিজেপি এখানে প্রচারে ঝড় তুলতে পারেনি। ভোট প্রচারে কোনো বড়ো তারকাকে এনে প্রচার করার ঝুঁকি দেখায়নি। মাধবডিহি এলাকায় কথা হচ্ছিল সইদুল শেখ, উজ্জ্বল ভট্টচার্যদের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, এই এলাকায় কোনো দিনই বিজেপি’র কোনো সংগঠন ছিল না। হাতেগোনা কয়েকজন বিজেপি করতেন। এখন মিটিং মিছিলে যাদের দেখা যায় তাদের অধিকাংশই এক সময় লাল ঝান্ডা ধরত। মানুষ তাদের বিশ্বাস করে না। তারা এখন সুর পাল্টে বলছে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেবে। তৃণমূল তো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছে। আগে ৫০০ টাকা দিয়ে প্রকল্প শুরু হয়েছিল। এখন তা অনেকটাই বেড়েছে। তাহলে মানুষ বিজেপিকে ভোট দেবে কেন।
তৃণমূল প্রার্থী মন্দিরা দলুইও বলছেন, যিনি মানুষের জন্য কাজ করছেন তাঁকেই সকলেই বিশ্বাস করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, স্বাস্থ্যসাথীর মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের বাসিন্দারা পাচ্ছেন। আর বিজেপি বলছে তারা ক্ষমতায় এলে এই সমস্ত প্রকল্পেরই অনুকরণ করবে। তাহলে কেন তাদের ভোটাররা বিশ্বাস করবেন। তৃণমূলের জমানায় কাজ হয়নি এমন এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এলাকার তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরই এই বিধানসভা কেন্দ্রেও দলের অন্দরে চোরাস্রোত বয়ছিল। সেই খবর পৌঁছায় রাজ্য নেতৃত্বর কাছে। শীর্ষ স্তরের এক নেতা কয়েক দিন আগে রায়নায় এসে কড়া ডোজ দিয়ে গিয়েছেন। তারপর থেকেই অ্যাভন্তরীণ কোন্দল মিটে গিয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন, কে কোথায় কী কাজ করছেন সেই খবর তাঁদের কাছে রয়েছে। যারা দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে তাদেরকে ভোটের পর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তারপর অবশ্য আর কেউ ঝুঁকি নেয়নি। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। তাতে বিরোধীরা আরও ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী সুভাষ পাত্র অবশ্য বলছেন, তৃণমূলের জমানায় প্রকৃত উপভোক্তারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি। মানুষ অনিয়মের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। সেই কারণেই তৃণমূলের আতঙ্ক বাড়ছে। বাম প্রার্থী সোমনাথ মাঝি অবশ্য বলছেন, এলাকার মানুষ ভাল নেই। চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। কেন্দ্র ও রাজ্যের জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মানুষ এবার তাদের বিরুদ্ধে ভোট দেবে।